ফোনকল পেলেই রোগীর বাড়িতে তিন বন্ধু

সজিবুল ইসলাম হৃদয়ঃ “ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার” স্লোগানকে সামনে রেখে ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে অসুস্থ মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার উদ্যোমী তিন যুবক।

ব্যাটারিচালিত অটোতে একটি ব্যানার লাগানো, সেখানে লেখা ‘ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম’। আর গাড়িতে আছে কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ঔষুধ। ফোন কল পেলেই সেই গাড়ি নিয়ে বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তারা। অর্থাৎ রোগীকে ডাক্তারের যেতে হচ্ছে না। বরং ফোন করলেই ডাক্তারই চলে যাচ্ছে বাড়িতে।

ঘরে বসেই মিলছে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ঔষুধ। করোনাভাইরাস আতঙ্কে যখন অনেক চিকিৎসক রোগীর কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন, ঠিক তখনি গত এক সপ্তাহে এমন ব্যতিক্রমী সেবা পেয়েছে চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৭০ জন হতদরিদ্র অসুস্থ মানুষ। অার উদ্যোমী সেই তিন যুবক হলেন, উপজেলার হিয়ালদহ গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আরিফুল ইসলাম সৈকত, বেজপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে রাসেল পারভেজ ও গুনাইগাছা গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে রুহুল আমিন।

তারা সদ্য চার বছরের ম্যাটস ( মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট) কোর্স সম্পন্ন করেছেন। সরোজমিনে দেখা যায় চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তারা। সাথে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দিচ্ছেন বিভিন্ন পরামর্শ। এসময় আরিফুল ইসলাম সৈকত নিউজ ঢাকা ২৪কে জানান, তিন বন্ধু ভাবনায় কিভাবে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া যায়। সেই চিন্তা থেকেই সিদ্ধান্ত নেন, ফোন কলের মাধ্যমে বাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিবেন তারা। আর সেই উদ্যোগের নাম দেন ‘আস্থা হেলথ সেবা ডটকম’। যেখানে নিজেদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয় তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এতে মানুষের সাড়াও মিলছে ভালো।

এছাড়া রাসেল পারভেজ জানান, গত দুই মাস আগে শুরু হলেও দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় সেটিকে আরো জোরদার করা হয়। তাদের নির্ধারিত নাম্বারে ফোন দিলে সেই রোগীর বাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন তারা। তাদের কাছে ওষুধও থাকছে, তবে সেই ওষুধ রোগী চাইলে টাকা দিয়ে কিনে নিতে পারেন। এজন্য রোগী বা স্বজনকে হাটে-বাজারে ওষুধ কিনতে যেতে হচ্ছে না। তিন বন্ধুর কাছে ঘরে বসে অসুস্থ্য স্বজনের চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে পাওয়ায় খুশি রোগীর স্বজনরাও।

উপজেলার শিবাখালি গ্রামের মেহেদী হাসান জানান, তার মায়ের ঠাণ্ডা কাশি, ডায়াবেটিস ও প্রেসারের সমস্যা ছিল। তাদের ফোন দিলে বাড়িতে এসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে গেছেন। এজন্য কোনো টাকা নেয়নি। এছাড়াও নতুনপাড়া গ্রামের সুরুজ অালী জানান, তার বাবার ডায়াবেটিস ও নিয়মিত পায়ে ড্রেসিং করা লাগে, তাদের ফোন দিলেই ড্রেসিং করে দিয়ে যায়, এখন অার ড্রেসিং করতে হাসপাতালে যাওয়া লাগে না। এমতাবস্থায়, তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা তাদের স্বাস্থ্যসেবা পাবনা জেলা ব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে করো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। তবে এ কাজে অর্থের প্রয়োজন হয়। এখন নিজেদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

 

যদি কারো সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে এই কাজকে আরো ভালভাবে করতে পারবেন তারা। উল্লেখ্য, অাপাতত শুধু মাত্র পাবনার চাটমোহর উপজেলার মানুষ বাড়িতে বসে চিকিৎসা সেবা পাবেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আরিফুল ইসলাম সৈকত ০১৭০৫-১০৫৯৯৮, রুহুল আমিন ০১৭৫৪-৬৩১৫০৩ ও রাসেল পারভেজ ০১৭৪৪-৮০৩৫৯০ এই নাম্বার গুলোতে ফোন করতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

রাজবাড়ীতে নতুন করে ১২ জনের করোনা শনাক্ত ; জেলায় মোট শনাক্ত ৭৪ জন

 রাজবাড়ীতে নতুন করে আরো ১২ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত …

One comment

  1. ভালো উদ্যোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!