যে শিমুল গাছে আঘাত করলে নাক দিয়ে রক্ত আসে !!

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলাধীন নারায়নখোলা ইউপিতে অন্যতম দর্শনীয় স্থান এই রহস্যময় শিমুল গাছ।কথিত আছে এই গাছে আঘাত করলে নাক দিয়ে রক্ত আসে !!

এই গাছের জন্মলগ্ন কেউ বলতে পারেনা। গাছটি যার জমিতে আছে মো মোতাহার হোসেন বলেন তার বাবার পৈতৃক সম্পদ হিসেবে পেয়েছেন। তার বাবা পেয়েছিলেন তার বাবার কাছ থেকে ধারাবাহিক ভাবে মালিকানা পরিবর্তন হলেও এর জন্মলগ্ন ইতিহাস কেউ জানেন না। এই শিমুল গাছটি এতো বিশাল যে, প্রায় ৫০ শতাংশ জমি বিস্তৃত গাছের ঢালপালা। চৌদিক গাছের ঢাল মাটি থেকে মাত্র ৫ ফুট উপরে। গাছের যে কোন প্রান্তের একটি ঢালে নাড়া দিলে সমস্ত গাছে পাতার ঝনঝন শব্দ শুরু হয়। তবে সাবধান, গাছের ঢাল ভাঙ্গলে নাকে মুখে রক্ত আসতে শুরু করে। অনেক আগের ইতিহাস হলো – এই গাছের সাথে সম্পর্ক আছে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পুরাতন ব্রক্ষপুত্র নদের। এই শিমুল গাছে আশ্রয় নেওয়া জিন ও পরি গুলো রাতের বেলা গাছ থেকে নেমে ব্রক্ষপুত্র নদে যেত শিকার ও স্নান করার জন্য। (যদিও এখন আর কারো চোখে পড়েনা) অনেক দিন আগে এই গাছটি বিক্রি করা হয়েছিল। করাতি লোকেরা গাছের একটা ঢাল কাটতেই নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত আসতে শুরু করে, তারপর থেকে আর গাছের মালিক গাছ বিক্রয় করেনা এবং কোন ক্রেতাসাধারণ কিনতেও আসেনা।

রহস্যের কিছু কথাঃ

কম বয়সী ছেলে মেয়েদের গাছের সবচেয়ে উচু ঢালে দাঁড় করিয়ে নাচাতো, শত শত লোকজন এসব দেখে আনন্দ করতো এবং ভয়ও পেত।গরিব লোকদের বিবাহের সময় রাতের বেলা গাছের নিচে এসে বিবাহের কথা বললে – কাসার – থালা বাসন, ঘটি বাটি, ডেক ইত্যাদি কিছুক্ষণের মধ্যে গাছের নিচে পাওয়া যেত কাজ শেষে সমস্ত জিনিস ফেরত দিতে হতো। যদি কেউ লোভ করতো জিনিস দু একটা রেখে দিতো তবে তাকে অদৃশ্য ভাবে অনেক ভয় ভীতি দেখাত। মানুষের লোভের কারণে এই জিনিসপত্র দেওয়া প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে।জীবন চলার পথে বিপদে আপদে অনেক লোকজন এই গাছের নিচে মান্নত করে উপকার পেয়েছেন।

উৎসবঃ

পহেলা বৈশাখ-1 পহেলা বৈশাখে হাজার লোকের শুভগমনে এই বেড় শিমুল গাছের আশেপাশ হয়ে উঠে জনবহুল এলাকা। অনেক দুর-দুরান্ত থেকে লোকজন এই গাছের নিকট আসে বিনোদন করতে। সারাদিন চলে যেমন নানা ধরনের অনুষ্ঠান তেমনি রাতে চলে বহু বাউলের সম্নয়ে বাউল গানের অনুষ্ঠান।

স্বাধীনতা দিবসঃ

আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করার লক্ষে হাজারো মানুষ এই বেড় শিমুল গাছের ছায়ার নিচে একত্রিত হয়ে স্বাধীনতা দিবসকে শদ্ধার সাথে স্মরণ করে নানা রকম কর্মসূচীর মাধ্যমে।
ঈদ আনন্দঃ মুসলমাদের দুটি ঈদেই এই শিমুল গাছের নিচে মানুষ বিভিন্নভাবে আনন্দ করে। সবাই সুসজ্জিত পোষাকে বেড়াতে আসে এই শিমুল গাছের নিচে । শিমুল গাছের শীতল ছায়াতে ঘুরে ফিরে কিংবা গল্প করে কটিয়ে দেয় অনেকটা সময়।

ভালোবাসার উৎসবঃ

বর্তমানে এই শিমুল গাছ প্রেমিক – প্রেমিকাদের জন্য দেখা করার ও কথা বলার জন্যও সুব্যবস্থা হয়েছে। কোন প্রকার সমস্যা নেই। চারদিক খোলামেলা পরিবেশ।

পিকনিকঃ

ধীরে ধীরে পিকনিক স্পর্ট হিসেবে এই বেড় শিমুল গাছে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। জেলা পরিষদ ও মোঃ ইদ্রিস আলী (শেরপুর) এর পক্ষ থেকে বসার জন্য ও দর্শনার্থীদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা হয়েছে।

সুটিং স্পর্টঃ

আপনারা জেনে আরো আনন্দিত হবেন যে, এই বেড় শিমুল গাছে নিচে অনেক চলোচিত্রের সুটিং হয়েছে। আলী রাজ, অমিত হাসান, আনোয়ারা, জয়, জাবেদ সহ আরো বহু চলোচিত্র অভিনেতা/অভিনেত্রী এখানে সুটিং করার জন্য এসছেন এবং এই বিশাল শিমুল গাছ দেখে আনন্দিত হয়েছেন।

বহু প্রজাতির পাখি দেখাঃ

এই গাছের ঢালে বাসা বেধে কালের পর কাল পাড় করছে শত শত প্রজাতির পাখি। তার মধ্যে- টিয়া – শালিক – চড়ুই – ময়না – কোকিল সহ আরো অনেক পাখি নিরাপদে এই গাছে বসবাস করছে।

কিছু ব্যাখ্যাঃ

কেন বার বার বেড় শিমুল গাছ বলা হলো- এই শিমুল গাছের বেশ কয়েকটা শিকর গাছের চার পাশে তিনটা ঘরের সৃস্টি করেছে। আপনি যদি এই ঘরের ভিতরে প্রবেশ করেন মনে হবে আপনি একটি বিল্ডিং ঘরের ভিতরে আছেন।
অবাক করা একটা বিষয় যে,- এই গাছের বাকলে স্বাধীনতা স্মৃতি সৌধ- কুমির- পেঁচা- সিংহ – সাপ – বুড়িমার ছবি স্পস্ট লক্ষ্য করা যায়। গাছের সবগুলো বিষয় সবাইকে মুগ্ধ করবেই।পাশবর্তী- বি এ ডি সি হিমাগার পাটাকাটা। ব্রক্ষপুত্র নদ নারায়ণখোলা। গাজীর দরগা রুণীগাও। নীলকুঠিরপাড় পাঠাকাটা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

সিঁদুর খেলা-বির্সজনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যপী দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

হৃদয় এস সরকার,নরসিংদী: উৎসবের ইতি। মন খারাপের শুরু। বাতাসে বিষাদের সুর। তিথি অনুযায়ী, দেবীর বিদায়ের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!