পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হচ্ছে চলতি মাসেই

পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হচ্ছে চলতি মাসেই

পদ্মা সেতু এর কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। দেশের অন্যতম এই মেগা প্রকল্পের ৪৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

সেতুর প্রথম পিলারের ওপরের ৩৭ নম্বর পিলারের ঢালাই কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরেকটি পিলারের ঢালাই হলে উঠে দাঁড়াবে সুপারস্ট্রাকচার (স্প্যান)। ফলে চলতি মাসেই মধ্যই দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে স্বপ্নের এ সেতু।

ইতি মধ্যে সেতুর প্রথম পাইল তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৮ জুন ঢালাই কাজ ধরা হবে ৩৮ নং পিলারের। ৩৮ নং পিলার সম্পন্ন হওয়ায় পরই প্রথম স্প্যানটি (সুপারস্ট্রাকচার) সেতুর ওপর বসানো হবে।

সেতু তৈরির কাজে দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, সুপারস্ট্রাকচার বসবে ৪১ টি পিলারের উপরে। এর মধ্যে ২০ টি স্রাকচার ইতি মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। বাকি গুলো তৈরি হচ্ছে চীনে । তৈরি সম্পন্ন হলেই এগুলো চীন থেকে বাংলাদেশে আনা হবে।

এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্কে যাতে কোন অনিয়ম না হয় সেদিকে নজর রাখছে খোদ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই যেন সম্পন্ন করা যায় সেদিকেই লক্ষ রাখা হচ্ছে।

পদ্মা সেতু এলাকায় সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার সেতুর দুই পারে মাওয়া, জাজিরা, শিবচরে কর্মযঞ্জ চলছে। মাওয়াতে বড়ো বড়ো ক্রেনের মাধ্যমে টেষ্ট পাইল বসানোর কাজ চলছে। নির্মান সামগ্রী ওঠা নামা করার জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা।

পদ্মায় এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে মূল সেতুর ৭৬টি পাইল স্থাপন হয়েছে। এ ছাড়া জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সেতুর পাইল স্থাপন হয়েছে ১১৩টি।

গত শুক্রবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেতুর কাজের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে গেছেন।  তখন তিনি বলেছেন, সেতু যথাসময়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। আর নতুন হ্যামার সংযুক্ত হওয়ায় পরে কাজের গতি আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সেতুর স্প্যান ফিটিংয়ের কাজ চলছে দ্রুততর সঙ্গে। পদ্মা সেতুর মোট ৪১টি স্প্যান প্রয়োজন।চীনেই তৈরি হয়েছে  ৪১টি স্প্যানের মধ্যে সবগুলোই । এগুলোর এক একটি স্প্যানের ওজন প্রায় ৩ হাজার টন। ইতি মধ্যে ২০টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। বাকি গুলাও দ্রু্তই স্থাপন করা হবে।

সেতুর জন্য মোট ২৪০টি টিউব প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ১৯২টি টিউব তৈরি হয়েছে। বাকিগুলো তৈরির কাজ চলছে। সেতু নির্মাণযজ্ঞে এখানে বিরাজ করছে বিশেষ পরিবেশ।
এদিকে, এরই মধ্যে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড। মাদারীপুর পাঁচ্চর থেকে শরীয়তপুরের নাওডোবা পর্যন্ত এই সড়কের দৈর্ঘ্য সাড়ে ১০ কিলোমিটারের বেশি। অ্যাপ্রোচ সড়ক চালু হওয়ায় নৌ-পথের দূরত্ব আট কিলোমিটারের বেশি কমে গেছে। যাত্রীরা এখন   লঞ্চ বা ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিতে পারছেন এক ঘণ্টারও কম সময়ে । আগে যেখানে সময় লাগতো ২ ঘন্টার ও বেশি।

 

আরো পড়ুন: কচুরিপানা এবং স্রোত কেড়ে নিলো প্রায় অর্ধশতাধিক প্রান

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু

নোয়াখালীতে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এক মাসের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নোয়াখালী সোনাইমুড়ীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আতাউর রহমান ভূঁইয়া স্কুল এন্ড …

Leave a Reply

Your email address will not be published.