নরসিংদী

সংগঠনের স্বার্থে বৈঠকে বসছে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগ

হৃদয় এস সরকার,নরসিংদী প্রতিনিধিঃ নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের দীর্ঘ দিনের দলীয় অচলাবস্থা,অন্তরীণ কোন্দল সহ জেলা ছাত্রলীগের পুনাঙ্গ কমিটি বাস্তবায়ন করবার লক্ষ্যে একসাথে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জেলা ছাত্রলীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি হাসিবুল হাসান মিন্টু ও সাধারন সম্পাদক আহসানুল ইসলাম রিমন।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে সভাপতি মিন্টুর ফেসবুকে দেয়া এক পোষ্টের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার পর সোমবার বিকেল ৪ টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক বৈঠকে মিলিত হবার বিষয়টি নিশ্চত করা হয়।

গত ৫ ফেব্রুয়ারী নিউজ ঢাকা ২৪ এ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিষ্প্রাণ নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। যে প্রতিবেদনে প্রায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সঙ্গে সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তায় দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা , পাচঁ বছরেও জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া, নিয়মিত জেলা ছাত্রলীগের দলীয় কর্মসূচী পালনে ব্যাহত ঘটছে, সঠিক রুপে দলের কার্যক্রম করতে পারচ্ছে না জেলা ছাত্রলীগ দলীয় নেতৃবৃন্দরা।

এছাড়াও বিভিন্ন শাখা ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি অনুমোদনকে ঘিরে জেলা ছাত্রলীগ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানান তর্ক-বির্তকের।

এবং উঠেছে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল ইসলাম রিমনের বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ। এনিয়ে সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে জেলা কমিটির অন্তর্ভুক্ত ১০ টি ইউনিটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ দেয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনের পরে নড়েচড়ে বসে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দরা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাধারন সম্পাদক রিমন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে নিজের শতভাগ সদিচ্ছার কথা প্রকাশ কার ও ২৪ ঘন্টাই প্রস্তুত জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসিবুল হাসান মিন্টুকে চ্যালেঞ্জ দেন।

যার কারণে আজ বিকালে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুল হাসান মিন্টুর ফেসবুক পোস্টে দেয়া এক লেখার মাধ্যমে উল্লেখ্য করা হয়, নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিমন, ফেসবুকের মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে অপকৌশল অবলম্বন ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন। যদিও আমি ফেসবুকের রাজনীতিতে বিশ্বাসী না।

আমি মুজিব আদর্শের অনুসারী ও ছাত্রলীগের ক্ষুদ্র কর্মী। পদের জন্য লালায়িত নই।বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ভালোবাসি। সংগঠন ও গঠনতন্ত্রে আনুগত্যশীল।

নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের বাবু রিমন কমিটি ঘোষণা হয় ৯/১০/১৭ তারিখে। আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পাই ২৩/৭/১৯ তারিখে। বাবু, রিমন যৌথভাবে দায়িত্ব পালনকালে ২৫/১১/১৭ তারিখে রায়পুরা উপজেলা ছাত্রলীগের সন্মেলন, সদর থানা ও মাধবদী থানা ছাত্রলীগের সম্মেলন ১/১২/১৭তারিখে এবং নরসিংদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন ১৬/৩/১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও,আমি দায়িত্ব পাওয়ার পূর্বে প্রতিটি ইউনিটের সম্মেলনের পর দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও, জেলা কমিটি সহ উপরোক্ত উপজেলা পর্যায়ের কমিটি গুলো কেন পূর্ণাঙ্গ হয়নি?এ ব্যর্থতা কার? অথচ প্রতিটি ইউনিট তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উপরন্তু নরসিংদী সরকারি কলেজ শাখার সম্মেলনে যে কমিটি ঘোষিত হয়েছিল, সে কমিটির বাইরে সাধারণ সম্পাদক রিমন, তৎকালীন সভাপতি বাবুর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে পাল্টা আরেকটি কমিটি প্রদান করে।

যার প্রতিবাদে সে সময় বাবু সদর থানায় জিডি করে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি শোভন ভাই ও রাব্বানী ভাইয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করে, সেই সাথে রিমনের সাথে জিদ করে বাবু একক স্বাক্ষরে কমিটি ঘোষণা করে।

সংগঠন পরিপন্থী একক স্বাক্ষরে কমিটি করায় বাবুর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলেও, রিমন তার অনৈতিক কর্মের শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যায়।

আমি এই জটিল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর, সবগুলো সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে রিমনের সাথে কথা বলে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী হই।

আমি রিমনকে বলেছি ,চলো আমরা একসাথে বসে নরসিংদী জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করন এবং সেই সাথে দুই বছরের অধিক সময় পার হয়ে যাওয়া উপজেলা ইউনিট গুলো পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন এবং নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলনে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়, সে কমিটির পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন করি।

রিমন সবগুলো বিষয় এড়িয়ে শুধু জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কথা বলে। নরসিংদীর জেলা ছাত্রলীগ তার সবগুলো ইউনিট নিয়ে একটি পরিবার।

আমি শুধু চেয়েছি দুই বছর ধরে বঞ্চিত থাকা ইউনিটগুলো যেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায় এবং সেই সাথে জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরি করে কেন্দ্রে জমা দেওয়ার জন্য।

এই শর্তে যদি রিমন রাজি থাকে, আমি মিন্টু এক ঘণ্টার নোটিশে বসতে রাজি আছি। রিমন রাজি হবে তো? আমি প্রস্তুত আছি। আমার চাওয়াটা সংগঠনের জন্য, সংগঠন বাঁচানোর জন্য এই ফেসবুক পোষ্টের কমেন্টে সাধারন সম্পাদক রিমন প্রস্তাবে একমত হয়ে বৈঠকে মিলিত হবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ।

এরপরই সোমবার বিকেলে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুই নেতা তাদরে এই বৈঠকের খবরে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে জেলার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে ইতিমধ্যে বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ বৈঠকের সফলতা কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়ছেন।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,রাজবাড়ীতে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

উপহারসামগ্রী

শুভাঢ্যা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর পক্ষ থেকে ছাত্রলীগকে উপহারসামগ্রী প্রদান

করোনা কালীন সময়ে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর পক্ষ থেকে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন  ছাত্রলীগকে উপহারসামগ্রী প্রদান করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.