Home / উদ্যোগ / সংস্কারের অভাবে বেহাল দশা রাজবাড়ীর সরকারী খাদ্য গুদামের
সংস্কারের

সংস্কারের অভাবে বেহাল দশা রাজবাড়ীর সরকারী খাদ্য গুদামের

শেখ রনজু আহাম্মেদ রাজবাড়ী প্রতিনিধি: সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন বেহাল হয়ে আছে রাজবাড়ীর খাদ্য গোদাম পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে সকল প্রকার কার্যক্রম।

মাঝে মধ্যেই শ্রমিকদের মাথার উপর খুলে পরছে ভবনের পলেস্তরা। মূল ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। এমনকি গোদামের মধ্যে থাকা ড্রেনেজের ময়লা আবর্জনার কারনে ছড়াচ্ছে দুগর্ন্ধ দেখা দিচ্ছে রোগ বালাই।

রজবাড়ী সদর উপজেলার সরকারী খাদ্য গোদামের কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকায় এই খাদ্য গুদামটি ১৮৯ শতাংশ জমির উপর ১৯৫১ সাল থেকে ৫৬ সালের মধ্যে তৈরি করা হয়।

প্রথমে ৩ টি গুদামে অফিসার কোয়ার্টার নিরাপত্তা প্রহরী কোয়ার্টার ও অফিস কক্ষ তৈরি করা হলেও পরে আরো ৩ টি গুদাম তৈরি করা হয়। তৈরির পর কেটেছে প্রায় ৭০ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে হয়নি কোন সংস্কার কাজ। ২০১৫ সালে একটি গুদাম একটি ভবনের মেঝেতে সংস্কার করা হয়।

কার্যালয় সুত্রে আরো জানাযায়, এই খাদ্য গুদামে বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি-ওএলএসডি ), এসআই ২ জন, এএসআই ১ জন, ও ৮ জন নিরাপত্তা প্রহরী কর্মরত আছেন।

৩ হাজার ৯০০ টন ধারন ক্ষমতার এই খাদ্য গোদাম থেকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মালামাল সরবরাহ করা হয়। সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খাদ্য গুদামে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কক্ষে পলেস্তরা খুলে খুলে পরছে। তার মধ্যেও কর্মকর্তারা অফিস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া গুদামে থাকা ৬ টি বড় ভবনের মধ্যে ১ নং ভবনে যেখানে সদ্য ক্রয়কৃত আমন ধান রাখা হয়েছে সেখানেও পলেস্তরা ধ্বসে পরছে। এমন মুল ভবনের ভীম ( কলাম ) ভেঙ্গে পরছে। এ সময় দীর্ঘদিনের পুরাতন শ্রমিক সর্দার শামছুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এখানে আমাদের শ্রমিকেরা এখন জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করছে। প্রতিনিয়তই উপর থেকে মাথার উপর ময়লা আবর্জনা পরছে। সব সময় মনে হয় কখন যেন পুরো ছাদ ভেঙ্গে মাথার উপর পরে। সব সময় একটা আতঙ্ক নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়।

খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ রমজান আলী বলেন, ভবনগুলো জরাজীর্ন পাশাপাশি বাউন্ডারী ওয়াল ধ্বসে যাওয়ার কারনে আনাগোনা বেড়েছে ছিচকে চোর ও মাদকসেবীদের যে কারনে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগী।

রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা পিনু মেম্বার বলেন, শুধু পরিত্যক্ত ভবনের ঝুকিই নয়। খাদ্য গুদামের মধ্যে দিয়ে যাওয়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা এতই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টি হলেই গুদামের আশে আশে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পরে।

ড্রেন থেকে মশা মাছি গিয়ে পরছে খাবারের মধ্যে। পচা দুগন্ধের কারনে প্রতি নিয়ত বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি অসুস্থ্য হচ্ছে শিশুরা।

খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা ( ওসি-ওএলএসডি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, খাদ্য গুদামে থাকা ৬ টি ভবনই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরেছে। মাঝে মাঝেই পলেস্তরা পরে নষ্ট হচ্ছে কাগজ পত্র। অনেক সময় অল্পের জন্য রক্ষা পায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

গুদামের এমন দশার ব্যপারে মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরন করা হয়েছে। মন্ত্রনালয় থেকে কর্মকর্তারা এসে দেখে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা বলেছে। অনুমোদন হলেই শুরু হবে কাজ, কমবে ঝুকি।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,বুড়িগঙ্গা ফিরে পেয়েছে হারানো প্রান

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

About নিউজ ঢাকা ২৪

Check Also

খাওন নাই খুব কষ্টে গাড়ি নিয়্যা বের অইছি’

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আজ শুক্রবার হঠাৎ করে গণপরিবহন চলতে শুরু করেছে। পাশাপাশি বেড়ে গেছে যানবাহনের চলাচল। ...

দরিদ্রদের মাঝে বাল্যবন্ধু এসোসিয়েশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

দেশে চলমান করোনা সংকটে দুর্বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র জনগণ। কাজ বন্ধ তো চুলাও বন্ধ। এমন অবস্থায় ...