রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ; বাংলা সাহিত্যের প্রাণভ্রমরা

“মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।”

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  পৃথিবীকে ভালোবেসে এভাবেই চিরকাল মানুষের মাঝে বেচে থাকার আশা ব্যক্ত করেছিলেন ।আসছে ২৫শে বৈশাখ,   কবিগুরুর ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী ।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  তার অসামান্য প্রতিভা দিয়ে বাঙালী সাহিত্যকে দিয়ে গেছেন এক সমৃদ্ধ অধ্যায়। নিজের লেখার জাদুতে কোটি বাঙালীর হৃদয়ে হয়েছেন অমর।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাঙলা সাহিত্যে ভানু সিংহ খ্যাত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকো তে সম্ব্রান্ত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ। বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক একাধারে ছিলেন ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী এবং দার্শনিক।

কলকাতার এক ধনাঢ্য আর সংস্কৃতিবান ব্রাহ্মণ পরিবারে পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদাসুন্দরী দেবীর ঘর আলোকিত করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্ম্যাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করলেও বিদ্যালয়-শিক্ষায় অনাগ্রহী হওয়ায় শেষপর্যন্ত প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা গ্রহণ তার হয়ে ওঠেনি। গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ১৮৭৮ সালে,১৭ বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশে তিনি ইংল্যান্ডে যান। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু সেখানেও তিনি মন বসাতে পারেন নি। ১৮৮০ সালে পড়ালেখা অসম্পূর্ণ রেখেই তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর (২৪ অগ্রহায়ণ, ১২৯০ বঙ্গাব্দ) ঠাকুরবাড়ির অধস্তন কর্মচারী বেণীমাধব রায়চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণীকে রবীন্দ্রনাথ বিয়ে করেন বিবাহিত জীবনে যার নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী।

তখন তার বয়স মাত্র ৮,যখন তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা “অভিলাষ” কবিতাটি প্রকাশিত হয তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ ১৮৭৪ সালে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন মূলত একজন কবি যার প্রকাশিত মৌলিক কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫২। কিন্তু বাঙালি সমাজে তিনি মূলত জনপ্রিয়তা পেয়েছেন সংগীতস্রষ্টা হিসেবে যে কি না প্রায় দুই হাজার গান এর স্রষ্টা। তবে কবিতা আর গান ছাড়াও তিনি ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটগল্প, ৩৬টি প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ এবং ৩৮টি নাটক রচনা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সমগ্র রচনা রবীন্দ্র রচনাবলী নামে ৩২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর সামগ্রিক চিঠিপত্র প্রকাশিত হয়েছে উনিশ টি খণ্ডে। তাঁর প্রবর্তিত নৃত্যশৈলী পরিচিত “রবীন্দ্রনৃত্য” নামে।

১৯০২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাত্র ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী মৃণালিনী দেবীকে হারান।১৯০৫ সালে তিনি জড়িয়ে পড়েন বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে । ১৯১০ সালে রচিত গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কতৃক ভূষিত হন নাইট উপাধিতে। কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি নাইট উপাধি পরিত্যাগ করেন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য তিনি শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা এর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বভারতী। দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন এবং সমগ্র বিশ্বে প্রচার করেছেন বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী। ১৯৪১ সালে,১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২শে শ্রাবণ ৮০ বছর বয়সে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনেই প্রাণত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের প্রাণপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

শৈলকুপা প্রেসক্লাবে পৌর মেয়র সমর্থকদের অতর্কিত হামলা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে হামলা করেছে পৌর মেয়র কাজী আশরাফুল আজমের ক্যাডার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!