Home / সমস্যা ও সমাধান / ঐতিহ্য হারাচ্ছে পুরান ঢাকার আলুবাজার
ঢাকার আলুবাজার

ঐতিহ্য হারাচ্ছে পুরান ঢাকার আলুবাজার

ওয়ালিদ হোসেন ফাহিম: ঐতিহাসিক-ঐতিহ্যের সমাহার পুরান ঢাকা।সেখানেই ঐতিহ্যের বিলুপ্তি মিলছে পুরান ঢাকার আলুবাজার এলাকায়। পূর্বের সাথে বর্তমান চিত্রের তালমিল যেমন হারিয়েছে, তেমনি দিয়েছে ঐতিহ্য হাতঁছানি।

ছোট ছোট ওলি গলি, পুকুর ও ব্যান্ড পার্টি ব্যবসায় ছিল এই হাজী ওসমান গনি রোড আলুবাজার এলাকার ঐতিহাসিক বিষয় সমূহ। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে দেখা মিলছে। আলুবাজার পুকুর যেটি কিনা পুরনো দিনের কথা মনে করানোর কথা সেই পুকুরের বিষয় এখন আর তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই কারো।
এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ হাফিজ চাচার সাথে কথা বলে জানা যায় এক সময় এই পুকুর পারে বসে কেটেছে তার শৈশবের দিন গুলো তখন এলাকার অবস্থা তেমন ভালো না থাকলে ও প্রায় বেস সুন্দর ছিল এই পুকুরটি এখানে ছোট ছোট বাচ্চারা সাতার শিখতো ও ছোট বড়দের পাশাপাশি উনিও এখানে প্রায় সময় গোসল করতেন কিন্তু কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে এলাকার পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু এই পুকুরটির দিকে তেমন কেউ নজর দেননি বলে জানান তিনি।
এলাকার কাউন্সিলর গত বার নির্বাচিত হওয়ার আগেও বলছিলেন তিনি পুনোরায় এই পুকুরটির উন্নয়নের ব্যবস্থা নিবেন।কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে ও তেমন কিছু করতে দেখা যায়নি। প্রতিটি এলাকায় কিছু কিছু জিনিস এর জন্য সেই এালাকাটি পরিচিতি লাভ করে তেমনি এই এলাকার এক সময়ের জনপ্রিয় ব্যবসা ছিলো ব্যান্ড পার্টি প্রতিষ্টান গুলো।কিন্তু যুগে যুগে মানুষের চাহিদার পরিবর্তনে ফলে এলাকায় জমে উঠেছে নানা রকমের বানিজ্য যার ফলেই কেবল মাএ ২-১ টি ব্যান্ড পার্টির দোকান নজরে পরে।
এই বিষয় জানতে চাইলে এলাকার এক পুরনো ব্যবসায়ী বাংলাদেশ ব্যান্ড পার্টি দোকান মালিক মোঃ ইব্রাহীম নিউজ ঢাকা কে জানায় এই ব্যবসা ও প্রতিষ্টান তার বাপ-দাদার ভিটা, রাজা বাদশা আমল থেকেই তারা এই ব্যবসা করে আসছেন।এই খানে তার পাঁচ ভাইয়ের দোকান ছিল, কিন্তু আগের তুলনায় এখন আগের মত কেউ আর বিয়ে ও নানা রকমের অনুষ্ঠানে ব্যান্ড পার্টি আয়োজন করে না, যার ফলে পূর্বের এই ব্যবসার বর্তমান অবস্থান খারাপ হাওয়ায় একের পর এক অনেকেই এই ব্যবসা ত্যাগ করে। কিন্তু তার বাসার নিচে দোকান হওয়ায় এখনও সে টিকে রয়েছেন,আরও বলেন এখন তাদের সিজন চলছে।বিভিন্ন এালাকায় প্রচারণা চালাচ্ছে এই ব্যান্ড পার্টি নিয়ে তাই পরবর্তী সময়ে কি হবে তা বলতে পারি না।কিন্তু ইচ্ছা আছে তার শেষ নিশ্বাসটি সে তার এই ব্যবসায় থেকেই ত্যাগ করতে চান।
বিভিন্ন এলাকার মত এই এলাকার ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ছিল একসময় খুব সুন্দর চিত্র।কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তার ভিন্ন আকর চিত্র।পঞ্চায়েত থাকলে ও সেখানে ঝুলছে তালা।লোকজন ও তেমন একটা নেই বললেই চলে। এই বিষয় জানতে চাইলে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সে নিউজ ঢাকা কে জানায়, এই এলাকায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা থাকলে ও তা কার্যকর হয় না।
অনেক আগেই নিয়ম কানুন থাকলে ও তেমন কেউই তা মানে না।যার ফলে পঞ্চায়েতর এই দশা।এছাড়াও এই এলাকায় যে পুকুরটি রয়েছে সেই বিষয়ে নজর নেই কারো।পুকুরে পানিতে ময়লা আবর্জনা ফেলায় পুকুরের পানি থেকে জন্ম নিচ্ছে মশা সহ নানা রকমের পোকা মাকড়, কিছু দিন আগে ও এলাকায় ডেঙ্গুতে মারাত্মক ভাবে আক্রান্ত হয়েছে অনেকেই। যার জন্য এই পুকুরের সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় দায়ী করেন এলাকার বিভিন্ন লোকজন।
এছাড়াও সন্ধ্যা নেমে এলে পুকুর পারে আড্ডা জমায় অনেক অশাদু লোকজন যারা কিনা শুধু মাএ মাদক দ্রব্য গ্রহণ করার জন্যই এই স্থানটিকে বেছে নিয়েছে। এতে ক্ষতি হচ্ছে আশেপাশের পরিবেশ ও যুব সমাজ,যদি এই সব বিষয় গুলোর উপর সঠিক ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে এই এলাকাটি থেকে এক সময় ঐতিহ্যের পরিচয়টি মিটে যাবে।
এ বিষয় ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের ৩৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর সমীর নিউজ ঢাকা কে জানায়, আলুবাজারের ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায় সে দিকে আমি কাজ করে যাচ্ছি,এলাকার যে পুকুরটি রয়েছে সেই পুকুরের ও নানা পরিকল্পনা আমার রয়েছে। কারন এই পুকুরটি আমি ১৯৯৪ সালে এলাকার কাউন্সিলোর নির্বাচিত হওয়ার পর সংস্কার করি।
তখন থেকে প্রায় বেশ কয়েক বছর পুকুরটির অবস্থান ছিল খুব সুন্দর। তারপর বর্তমান অবস্থার জন্য এলাকার কিছু লোকজন দায়ী। কারন সবাই যদি এই বিষয় একত্রে সচেতন হয়ে কাজ করতো, তাহলে এই এলাকার পুকুর ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ভালো থাকতো।সাথে অনেক এগিয়ে যেত।
তবুও আমি এলাকা বাসিন্দাদের আশ্বাস দিয়েছে যে আমি যদি পুনরায় এলাকায় কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হই তাহলে আমার এলাকার চিত্র আমি পরিবর্তন করবো। এছাড়াও যে পুকুরটি তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে তার পুনরায় সংস্কার করা ও এলাকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরায় চালু করবো।এটাই হবে আমার প্রথম লক্ষ।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

About নিউজ ঢাকা ২৪

Check Also

নরসিংদীতে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত ; পুরো গ্রাম লকডাউন

নরসিংদী পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইসলামপুর গ্রামে প্রথম একজন মসজিদের ইমাম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্থানীয় জেলা ...

নরসিংদীতে কঠোর অবস্থানে পুলিশ

করোনাভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে কঠোর অবস্থানে নরসিংদী জেলা পুলিশ। সোমবার (৬ এপ্রিল) নরসিংদীর ...

%d bloggers like this: