ইটভাটাগুলো

ফের চালু হয়েছে কেরানীগঞ্জের ভেঙে দেয়া ইটভাটাগুলো

» অভিযানের পর আবারো প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চালু হয়েছে ইটভাটাগুলো
» কেরানীগঞ্জে অধিকাংশ ইট ভাটার কোন কাগজপত্র নেই
»নদী ও ফসলী জমি ধ্বংশ করছে ইটভাটা

গত ২৬ নভেম্বর ২০১৯ ঢাকা ও তার আশেপাশের ইট ভাটা বন্ধের নির্দেশ দেন মহামান্য হাইকোর্ট। হাইকোর্টে আদেশের পরে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৩ দফা অভিযান চালায়। অভিযানে ১৩ টা ইটভাটাকে প্রায় ৭৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ঐ ইটভাটাগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু অভিযানের কিছুদিন পরেই আবারও নানা কৌশলে ভাটাগুলো চালু করেছে মালিকেরা।

সরেজমিন কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায় আবারো চালু করা হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে ভেঙে ফেলা সব কয়টি ইট ভাটা।

১৯ ডিসেম্বর সুলতান ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং মাস পেরুতেই আবারো চালু হয়েছে সুলতান ব্রিকস। কোন কাগজপত্রই নেই সুলতান ব্রিকসের মালিকের। কথা হয় সুলতান ব্রিকসের ম্যানেজার মো: কামরুলের সাথে। তিনি জানান ভেঙে ফেলার পরে অনেক টাকা খরচ করে আবারো চালু করেছি। ৬ লাখ টাকা জরিামানা দিয়েছি, মেরামত করতে খরচ হয়েছে, এছাড়রা ডাইনে বামে (ঘুষ) অনেক টাকা দিয়ে তার পরে চালু করতে পেরেছি। এবার ভাঙলে আর চালু করবো না।

সুলতান ব্রিকসের পাশেই দেলোয়ার মিয়ার ব্রিকস। এটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো । নিষেধাজ্ঞার পরে আবারো কিভাবে চালু করলেন এ বিষয়ে ম্যানেজার আলী আফজালকে প্রশ্ন করতেই তিনি তেড়ে এসে বলেন, আপনার কি সমস্য ? আমরা কি ভাবে চালাই সেটা দেখার বিষয় প্রশাসনের আপনার না। আমাদের মালিকের এখানে ৩/৪ টা ইট ভাটা। এভাবেই আমরা চালাই না। অনেক টাকা খরচ করতে হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর মন্ত্রনালয় ওয়েবসাইট সুত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জে ইট ভাটা আছে ৯০টির মতো। এর মধ্যে অনুমোদন রয়েছে ২৭টির। তবে বাস্তবিক চিত্রে ইট ভাটার সংখ্যা ১০০টির বেশি হবে। অধিকাংশ ইট ভাটার কোন কাগজ পত্র না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর ইট ভাটা আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ চিমনির মাধ্যমে এসব ভাটায় চলছে ইট তৈরীর কাজ। অনেক ইট ভাটায় পোড়ানে হচ্ছে কাঠ ও পুরানো টায়ার ও প্লাষ্টিক জাতীয় দ্রব্য, যা পরিবেশের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর।

কেরানীগঞ্জের ইটভাটা সম্পর্কে কেরানীগঞ্জ ইট ভাটা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবু বকরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বক্তব্য দিতে রাজনৈতিক ভাবে নিষেধ আছে। স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান চৌধুরী ফারুকের সাথে কথা বলেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য স্থানীয় কোন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইট ভাটা মালিক সমিতির সহ সভাপতি সাইদুর রহমান ফারুকের সাথে কথা বলার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ও তার ব্যাক্তিগত অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিক ফোন (০১৭৫৪৪৪৪১১৫) দিয়েও পাওয়া যায় নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান খান বলেন, আমরা কেরানীগঞ্জে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে বেশ কয়েকটি ইট ভাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অভিযান চলমান থাকবে। যেগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,ব্যবসায়ীকে অপহরনে পর মুক্তিপন নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে কেরানীগঞ্জে সাত ডিবি পুলিশ সাসপেন্ড

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বইমেলার পর্দা নামলো আজ

বইমেলার পর্দা নামলো আজ , তবে শেষ দিনেও আশা পূরণ হয়নি প্রকাশকদের শিপংকর শীল: প্রকাশনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!