মুক্তিপন নিয়ে

ব্যবসায়ীকে অপহরনে পর মুক্তিপন নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে কেরানীগঞ্জে সাত ডিবি পুলিশ সাসপেন্ড

ঢাকার দক্ষিন কেরানীগঞ্জে নাজিরেরবাগ এলাকার মো. সোহেল আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরনের পর মুক্তিপন নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে একজন উপ-পরিদর্শকসহ সাত গোয়েন্দা ( ডিবি )পুলিশকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃতরা হচ্ছে ঃ এসআই সৈয়দ মাহমুদুল ইসলাম, এসআই ফরহাদ আলী, কনস্টবল মো. রাজিব আহমেদ, মো. সুমন, মো. আব্দুর জব্বার, মো. রাসেল ও মো. মুজাম্মেল হোসেন। তারা সকলেই ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশ (দক্ষিন ) অফিসে কর্মরত ছিলেন।

অপহৃত ব্যবসায়ী মো: সোহেল বলেন, আমার গ্রামের বাড়ী বরিশালের ঝালকাঠি জেলার সদর থানার নেত্রাবাদ এলাকায়। পিতার নাম আনোয়ার হোসেন মন্টু। আমি বর্তমানে দক্ষিন কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের নাজিরেরবাগ এলাকায় জনৈক হাসেম মিয়ার বাড়ির ৫ তলায় স্বপরিবারে বসবাস করি এবং আগানগরের জিলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় কাপড়েরর ব্যবসা করি। গত ২৯ জানুয়ারী সন্ধ্যায় সদরঘাট থেকে বাসায় ফেরার পথে আলম মার্কেট এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয় একদল ব্যাক্তি সিভিলে তাকে একটি সাদা মইক্রেবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তারা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরতে থকে এবং নানান ভাবে গাড়ির ভেতরেই নির্যাাতন করতে থাকে । এক পর্যায়ে তারা আমার পরিবারের কাছে আমাকে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবী করে। আমার পরিবার এত টাকা কেথায় পবে,আমি গরীব মানুষ ।

রাত সাড়ে ১০টায় বছিলা ব্রীজ পার হয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আমার স্ত্রী সাবিনা ছোট বোন রিজিয়া পারভীন ও ছেলে বউ তানিয়া সাড়ে চার লাখ টাকা দিলে তারা আমাদের সবাইকে গাড়িতে করেই কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন লুটেরচর এলাকায় নামিয়ে দেন। পরদিন আমরা সাবাই ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার এর অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানই।

ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবি ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২৯ জানুয়ারী বিকেলে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা শুভাঢ্যা নাজিরেরবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল নামে এক ব্যাক্তিকে আটক করে ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবি পুলিশের এস আই মাহমুদের একটি টিম। এই ঘটনাটি তারা আমাকে অবহিত করেননি। আটককৃত ওই ব্যাক্তিকে পরে তারা নগদ অর্থের বিনিময়ে মডেল থানাধীন লুটেরচর এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় হয়রানীর অভিযোগের কারন দেখিয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন মো.সোহেল। ঘটনাটি প্রাথমিক তদন্ত করে আমি এর প্রমান পাই। এরপর তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিত্বে ওইদিনই (৩০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার) একজন দারোগা ও একজন সহকারী দারোগাসহ সাত পুলিশকে সাসপেন্ড করা হয় ।

ওসি ডিবি আরও বলেন, অভিযোগকারী সোহেল আহমেদকে তদন্তের জন্য ডিবি অফিসে ডাকা হয়েছিল। সে কোন ব্যবসায়ী সেই বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছেনা। কি কারনে তাকে আটক করা হয়েছে তাও বলতে চাইছে না। তবে তদন্তে মূল ঘটনা বেড়িয়ে আসবে বলে তিনি আশা করেন। কিন্তু তাকে আটকের পর কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অপরাধেই সাতজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,নরসিংদীতে পুলিশের উদ্যোগে শীতার্তদের কম্বল বিতরণ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বুড়িগঙ্গায় গোসল করতে নেমে শিশু নিখোঁজ ; একদিন পর লাশ উদ্ধর

বুড়িগঙ্গা নদীতে সুমন মিয়া নামের (০৯) বছরের এক শিশু গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। পরদিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!