কেমিক্যাল গুদাম

পুরান ঢাকার অনেক কেমিক্যাল গুদাম এখন কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়

গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারী  চক বাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ এক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় ৮০ জন নিরীহ মানুষ মারা যায় । কয়েকটি সংস্থার প্রতিবেদনে জানা যায়, চুড়িহাট্টায় যে পাচটি ভবন আগুনে পুড়ে আঙ্গার হয়ে যায় তার প্রতিটিতেই কেমিক্যাল গুদাম ছিলো। এবং কেমিক্যালের গুদামগুলোর রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের বিষ্ফোরনের কারনেই আগুন এতো ভয়ঙ্কর রুপ ধারন করে।

এ ঘটনার পর পর ই নড়ে চরে বসে সিটি কর্পোরেশনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকন ঘোষনা দেন পুরান ঢাকায় আর কোন কেমিক্যাল গোডাউন রাখতে দেয়া হবে না এবং কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। এরপর বেশ কয়েকটি গোডাউনে অভিযান ও পরিচালনা করেন তিনি।

তখন অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা বাচানোর লক্ষ্যে পুরান ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় তাদের কারখানা গোপনে স্থানান্তর করেন।

কেরানীগঞ্জের অনেক ভবন মালিক মোটা অঙ্কের অর্থের লোভে, অতিরিক্ত অগ্রিম ও ভাড়া পেয়ে কোন নিয়ম নীতি অথবা ঝুকির তোয়াক্কা না করেই নিজেদের আর্থিক সুবিধা হাসিলের লক্ষে আবাসিক এলাকার মধ্যেই তাদের জায়গা কেমিক্যালের গোডাউন হিসাবে ভাড়া দেয়।

আর এর প্রতিফলন হিসাবে গত রবিবার কেরানীগঞ্জের পূর্ব বন্দ ডাকপাড়া এলাকায় রাসায়নিক কেমিক্যালের গুদামে ভয়ানক বিষ্ফোরন ঘটে।

বিষ্ফোরিত গুদামটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে থরে থরে সাজানো ছিলো সোডিয়াম থায়ো সালফাইট, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট মনোহাইড্রেট ও ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড ।

এগুলোর একটিরও মেয়াদ নেই। বিষ্ফোরিত ঐ গুদামের আশেপাশের লোকজন জানান, দিনের বেলা কখোনোই এ গুদামগুলো খোলা হতো না। রাতের আধারেই মাল আনা নেয়া করা হতো।

কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় অনেকের সাথেই কথা বলে জানা যায় শুধু এ গুদাম না , কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কেমিক্যালের গোডাউন গুলোতে রাতের আধারেই কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে মাল আনা নেয়া করা হয়, এ কারনেই এলাকাবাসী এ সমস্ত গোডাউন সম্পর্কে তেমন কোন ধারনা রাখে না।

সরেজমীন কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই কম বেশি কেমিক্যালের গোডাউন রয়েছে। কতগুলো গোডাউন রয়েছে তা নিয়ে ধারনা নেই এলাকাবাসীর, তবে অধিকাংশ গোডাউন গেল বছর চুড়িহাট্টা ট্রাজেডীর পরেই স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অনেকের অভিমত।

কেরানীগঞ্জের আতাশুর এলাকার বাসিন্দা হাবীব জানান, আতাশুর এলাকায় প্রায় ৫/৬ টির মতো কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে। এগুলো নিয়ে এলাকাবাসী চিন্তিত। ডাকপাড়ার বিষ্ফোরনের পরে মনে ভয় ঢুকে গেছে। কখন কি হয় আল্লাহ মালুম। প্রশাসনের কাছে দ্রত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

কালন্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা মো: নুর উদ্দিন জানান, আমাদের ইউনিয়নেও বেশ কয়েকটি কেমিক্যালের গোডাউন আছে। পুরান ঢাকার মতো আমরাও কেমিক্যাল মুক্ত কেরানীগঞ্জ চাই। এ জন্য সরকারের কাছে অক’ল আহ্বান জানাই।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দেবনাথ দেশ রূপান্তরকে জানান, কেরানীগঞ্জে কি পরিমান গুদাম আছে তার সঠিক হিসাব জানা নেই। প্রতিটি গুদাম ই গোপনে গড়ে তোলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে, ভবন মালিকদের সাথে আমরা কয়েক দফা আলোচনা সভা করেছি। আমরা পরিষ্কার ভাবেই বলতে চাই আবাসিক এলাকায় কোন গুদামঘর রাখতে দেয়া হবে না। পর পর দুটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার পরে উপজেলা প্রশাসন এ ব্যাপারটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কাজ করছে।

এ দিকে, পূর্ব বন্দ ডাক পাড়ায় কেমিক্যাল দুর্ঘটনার গুদামটির মালিক সম্পর্কে এখনো কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। এলাকাবাসী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভবনটির মালিক ও গুদামের মালিক মো: মারুফ হোসেন চিকিৎসার জন্য গত ১০ দিন যাবৎ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। তিনি এখানে খুব একটা আসেন না। এখানে তার একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেয়া আছে। মূলত এই গোডাউনটি ম্যানেজারই দেখা শোনা করেন। ঘটনার পর থেকে ম্যানেজারও পলাতক রয়েছে।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম পিপিএম জানান, ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। যতটুকু জানতে পেরেছি মালিক মারুফ হোসেনের বাড়ি পুরান ঢাকায়।

উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির আহবায়ক সকহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ কামরুল হাসান সোহেল জানান, কেমিক্যালের গুদামটি সম্পূর্ন অবৈধভাবে ছিল। গুদামের মালিক ম্যানেজার না থাকার কারনে তথ্য সংগ্রহ করতে বিলম্ব হচ্ছে। বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের লোকজনকে আমরা আসতে বলেছি। কি কারনে এতো বড়ো ধরনের বিষ্ফোরন ঘটলো তা তাদের দিয়ে পরীক্ষা করা হবে। আশা করি খুব দ্রæত সময়ের মধ্যেই আমরা তদন্ত কাজ শেষ করতে পারবো।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,আন্তজার্তিক অ্যাওয়ার্ড পেলেন জবি শিক্ষক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

দুর্গা সেজে সমালোচনার মুখে নুসরাত

মহালয়ার দিন স্বামী নিখিল জৈনের বস্ত্র বিপণি সংস্থার বিজ্ঞাপনে মা দুর্গার বেশে ধরা দিয়েছেন নুসরাত …

5 comments

  1. Like!! I blog quite often and I genuinely thank you for your information. The article has truly peaked my interest.

  2. I learn something new and challenging on blogs I stumbleupon everyday.

  3. Good one! Interesting article over here. It’s pretty worth enough for me.

  4. Very good article! We are linking to this particularly great content on our site. Keep up the great writing.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!