গোলাপজাম আমাকে শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয় ।

গোলাপজাম আমাদের দেশের একটি অপ্রচলিত ফল। ‍অনিন্দ্য সুন্দর অবয়ব, ফিকে হলুদ কিংবা হালকা গোলাপী রঙ, মিষ্টি স্বাদ এবং গোলাপ ফুলের সুগন্ধযুক্ত রসালো এ ফলটি বাংলাদেশ থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে রয়েছে। সর্বাধিক প্রচলিত ইংরেজী নাম Rose Apple হলেও এটি Malabar Plum, Gulab jamun, Pomme Rosa ইত্যাদি নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium jambos.

পাকা টসটসে গোলাপজাম।
পাকা টসটসে গোলাপজাম।

চিরসবুজ এই গাছটি মাঝারি উচ্চতার এবং প্রায় ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। দেখতে অনেকটা ঝোঁপাল ধরনের। ডালপালাগুলো নমনীয়, মাটির কাছাকাছি নেমে আসে। বসন্তের প্রথমভাগেই ফুল ফোটা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত ফুল ফোটে। ফুল দেখতে ভারি সুন্দর। সুতোর মতো ধূসর সাদা রঙের অসংখ্য পাপড়ি চারপাশে আতশবাজির মতো ছড়িয়ে থাকে। দেখতে অনেকটা জামরুল ফুলের মতো। এ গাছে একই সময়ে ফুল ও ফল দেখা যায়। ফুলের পাপড়ি গুলো চটজলদি ঝরে পড়লে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ফলগুলো খাবার উপযুক্ত হয়। কাঁচা ফলের রং সবুজ। পাকা ফল ঘিয়ে বা বাদামি রঙের। ফলের শাঁস রসালো ও সুস্বাদু আর গন্ধটা গোলাপের মতো বলেই এর নাম গোলাপজাম।

বীজ এবং কলমের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা যায়। বীজ থেকে উৎপাদিত গাছ থেকে ৪-৫ বছরে এবং কলমের গাছ থেকে ২-৩ বছরের মধ্যে প্রথম ফল ধরে।

গোলাপজাম গাছের কাঠ দ্বারা দামী আসবাবপত্র প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। গোলাপজামে প্রচুর ক্যালসিয়াম, কেরোটিন ও ভিটামিন ‘সি’ সহ প্রায় সব ধরণের পুষ্টি উপাদানই কমবেশি বিদ্যমান। পাকা ফল সৈন্ধব লবনে সটকিয়ে ৩-৪ ঘন্টা রাখার পর নির্গত রস পানির সাথে মিশিয়ে পান করলে পাতলা পায়খানা দুর হয়। এ ফল মুখের রুচি বৃদ্ধি করে, বমি বমি ভাব দুর করে। গোলাপজাম গাছের ছাল ও পাতা বহুমুত্র রোগের উপকার করে।

একসময় গ্রামে প্রচুর দেখা গেলেও বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় গোলাপজাম এমন একটি গাছ; যার ফুল, ফল, পাতা সবকিছুই বেশ আকর্ষণীয়। গ্রামের অবহেলিত এই গাছটি তাই নিজগুণেই স্থান করে নিয়েছে শহরের উদ্যানগুলোতে। এ কারণেই শহরের পার্ক ও উদ্যানগুলোতে কিছু কিছু গাছ চোখে পড়ে। কেউ কেউ শখ করে বাসার পাশেও লাগিয়েছেন দু’একটি। তবে ঢাকায় সবচেয়ে বড় বীথিটি চোখে পড়ে মীরপুর চিড়িয়াখানার দক্ষিণপাশে।

বাড়ির আশপাশে, জলার ধারে, পুকুর পাড়ে খুব সহজেই বেড়ে ওঠে এরা। তাই আসুন জীববৈচিত্র্য রক্ষাকল্পে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই সুদৃশ্য ফলটি উপহার দেবার জন্য আসছে বর্ষায় অন্ততঃ একটি গোলাপজাম গাছের চারা রোপন করি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

মুমিনের হৃদয়ে কারবালা র কান্না

সূফি কবি নজরুল বলেন,  কাদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে /সে কাদনে আসু আনে সিমারেরও ছোরাতে,   …

error: Content is protected !!