সম্মেলন

রাজাকারের তালিকায় কেরানীগঞ্জের এক কৃষকের নাম থাকায় প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

স্বাধীনতা বিরোধীকারী রাজাকারের তালিকায় ভূলবসত ঢাকার কেরানীগঞ্জ রাজাবাড়ি এলাকার আব্দুল ছাত্তার নামে এক কৃষকের নাম থাকায় প্রতিবাদে সংবাদিক সম্মেলন করেছেন, ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ।

গতকাল মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে দুপুর ২টায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রয়াত আব্দুল ছাত্তারের ছেলে আব্দুল সামাদ, আব্দুল জলিল, আব্দুল ওয়াহিদ মীরু, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা শাহাআলম, মুক্তিযোদ্ধা সুবল সরকার, বাস্তা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগর সভাপতি হাজি জেড.এ. জিন্নাহ্, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ জামাল হোসেন, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আজিজুল হক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলার রাজাবাড়ি এলাকার প্রয়াত আব্দুল ছাত্তারের তৃতীয় ছেলে আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাংলাদেশ স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারের প্রকাশিত তালিকায় কেরানীগঞ্জ থানার ৪৫জনের মধ্যে আমার পিতা মৃতঃ পিতা আব্দুল ছাত্তারের নাম ৩৪ নম্বরে উল্লেখ্য করা হয়েছে। তার পিতা আব্দুল ছাত্তার একজন কৃষক ছিলেন। কৃষিকাজ করে সংসারের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। পিতা আব্দুল ছাত্তার অতিসাধারণ লোক ছিলেন।

তিনি কোন রাজাকার বা দেশদ্রোহী কাজে লিপ্ত ছিলেন না। আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, মুক্তিযোদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাবাড়ি গ্রামে আমাদের নিজ বাড়িতে” ১০ ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা মাঝে মধ্যে রাতযাপন করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের ঘরে প্রায় সময় রাতে খাবার খেতেন। প্রকৃত রাজাকারের নাম না দিয়ে সাধারণ একজন খেটেঁ খাওয়া, সাধারণ লোক তার পিতা আব্দুল ছাত্তারের নাম থাকায় সামাজিকভাবে তাদের পরিবারের মান-মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে।

আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি। তৎকালীন কে বা কারা চক্রান্ত করে পিতা আব্দুল ছাত্তারের নাম দিয়েছে। এলাকাবাসী,গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তার পিতা রাজাকার ছিল না বলে জানেন। অবিলম্বে উক্ত রাজাকারের তালিকা থেকে তদন্তপূর্বক তার পিতা প্রয়াত আব্দুল ছাত্তারের নাম বাদ দেওয়া দাবি জানান এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, মাননীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী ও ঢাকা-২ আসনের এমপি ও ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির চেয়ারম্যানের আশু হস্তক্ষেপ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহআলম জানার বলেন, আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আমার লাল বইয়ের তালিকায় নাম্বার হচ্ছে ঃ০১০২০৪০০০৩৭। রাজাকারের তালিকায় যে কৃষক সাত্তারের নাম উঠেছে। তা সম্পূর্ন মিথ্যা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা এই সাত্তারের বাড়িতে গোপনে রাত্রি যাপন ও খাওয়া দাওয়া করতাম। সে কি করে রাজাকার হয়। এটা হয়তো কেহ এই পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই নাম দিয়েছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,জনগনের সেবক হয়ে আবারও কাজ করতে চাই : আব্দুর রহমান মিয়াজী

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

তিন জেলার মানুষ বিনামূল্যে পাবে চক্ষু চিকিৎসা

জবি প্রতিনিধি: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও মানিকগঞ্জ এই তিন জেলায় অসহায়দের বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দিতে চারটি চক্ষু …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!