ঢাকার কেরানীগঞ্জে

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অভিবাসন মেলা ; নিরাপদ অভিবাসনের উপর জোড় দিলেন বক্তারা

’থাকতে পারে অনেক পথ, নিয়ম মেনে বিদেশ যাওয়াই হবে নিরাপদ’, এই স্লোগান নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে অভিবাসন মেলা। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, জেনে, শুনে, বুঝে এবং নিরাপদ উপায়ে বিদেশ যাওয়া উচিৎ।

 

বুধবার দিনব্যাপী এই অভিবাসী মেলার আয়োজন করে প্রত্যাশা প্রকল্প। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ব্র্যাক-এর সাথে অংশীদারিত্বে আইওএম বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করছে।

 

উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশীক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পণা বিভাগের উপ-প্রধান মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, ”অভিবাসনের জন্য দক্ষতার কোন বিকল্প নাই। আর নিরাপদ অভিবাসনের জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। এজন্য অভিবাসন মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, দক্ষ হয়ে নিরাপদে বিদেশ যান।”

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো কথা বলেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-এর উপ-পরিচালক মো. রেজওয়ানুল হক। তিনি বলেন, “২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। এজন্য নিরাপদ অভিবাসনের বিকল্প নেই।”

 

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে দিনব্যাপী এই মেলায় নিরাপদ অভিবাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য অভিবাসী, বিদেশ ফেরত অভিবাসীসহ মেলায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া অভিবাসন বিষয়ে গণনাটক প্রদর্শনী, ভিডিও শো, কুইজ প্রতিযোগিতা, নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন ছিল মেলায়।

 

মেলায় অংশগ্রহণ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার এলেক্সান্ড্রু শ্যালোটা। তিনি বলেন, ”অভিবাসীরা  দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। তারা বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। নিরাপদ ও সঠিক অভিবাসনের জন্য দক্ষতা ও নতুন নতুন বিষয়ে জ্ঞান বাড়াতে হবে।”

 

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম-এর প্রধান শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, “অভিবাসন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অভিবাসীরা রেমিটেন্স-এর মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এই খাতে কিছু সমস্যা আছে। তার মধ্যে অত্যাধিক অভিবাসন খরচ একটি। অভিবাসন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সচেতনতার বিকল্প নাই।”

 

আয়োজকরা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাংলাদেশী বিদেশে কর্মরত আছেন। শুধু ২০১৮ সালেই প্রায় ৮ লাখ মানুষ ভাল জীবিকার আশায় দেশের বাইরে গেছেন। বাংলাদেশ সরকার অভিবাসন খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩’ প্রণয়ন করে। এছাড়া নিরাপদ অভিবাসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করছে সরকার। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরেও অনেকেই অনিয়মিতভাবে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। মধ্যসত্বভোগীদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে দেশে ফিরছেন অনেকেই। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকার কেরানীগঞ্জ-এর উপজেলা পরিষদ মাঠে দিনব্যাপী অভিবাসন মেলার আয়োজন করছে প্রত্যাশা প্রকল্প।

 

মেলার আয়োজন সম্পর্কে আইওএম বাংলাদেশ-এর মাইগ্রেশন ও ডেভলপমেন্ট বিভাগের প্রধান প্রভিনা গুরুঙ্গ বলেন,”অনেক মানুষ না বুঝে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। ফিরে আসছেন খালি হাতে। আবার অনেকেই ভাল রোজগারের জন্য দেশের বাইরে যেতে চান। এই দুই ধরনের মানুষের জন্যই আমাদের এই আয়োজন। আমরা একদিকে সাধারণ মানুষদের নিরাপদ অভিাবসনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছি, যেন তারা জেনে, শুনে ও বুঝে দেশের বাইরে যান। আবার যারা ফিরে এসেছেন, তারা যেন সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সে জন্য মেলার মধ্যমে পুনরেকত্রীকরণের পথ দেখিয়ে  দেয়া হচ্ছে।”

 

দিনব্যাপী এই মেলায় অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অভিবাসন এবং রেমিটেন্স বিষয় নিয়ে কাজ করে এমন আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান, মাইগ্রেশন ফোরাম সদস্যগণ, বিজনেস এ্যাডভাইজোরি গ্রুপ সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক/প্যারা কাউন্সেলর, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউডিসির উদ্যোক্তাগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ অংশ নেয়।

 

মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত স্টলে তাদের কার্যক্রম, বিভিন্ন ধরনের সেবা সম্পর্কিত তথ্য এবং অন্যান্য উপকরণ প্রদর্শন করেন। যেখানে অভিবাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন মেলায় অংশ নেয়া ব্যক্তিরা।

 

প্রত্যাশা প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০১৯ উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ ১০ টি জেলায় অভিবাসন মেলার আয়োজন করেছে।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,নতুন প্রযুক্তিতে স্মার্টফোনে ১ মিনিটে চার্জ হবে ৮০%

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

অগ্নি নির্বাপন

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর অধিকাংশ দোকানেই নেই কোন অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা !

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী অগ্নিকান্ডের জন্য অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন একটি এলাকা। এখানে রয়েছে প্রায় ৮ …

3 comments

  1. This blog was… how do you say it? Relevant!!
    Finally I’ve found something which helped me. Kudos!

  2. Hi it’s me, I am also visiting this web site daily, this web page is really
    good and the visitors are really sharing good thoughts.

  3. Oh my goodness! Impressive article dude! Thanks, However I am going through difficulties with your RSS.
    I don’t know the reason why I cannot join it. Is there anybody else
    getting similar RSS problems? Anyone who knows the answer will
    you kindly respond? Thanx!!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!