ঘূর্ণিঝড় মোরা

ঘূর্ণিঝড় মোরা ‘র কবলে উপকূলীয় অঞ্চল !উপকূলে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত।

গত শনিবার থেকে বঙ্গোপসাগরের পূর্ব উপকূলে বাতাসের নিম্নচাপ দেখা দেয়। বাতাসের বেগ বেড়ে তা  ঘূর্ণিঝড় মোরা  নাম নিয়ে আজ সন্ধ্যায় আঘাত করে সমুদ্র উপকুলীয় অঞ্চলে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

আর উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো থাকবে ৫  নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায়।

উল্যেখ্য যে, আজ সোমবার ভোরে ঘূর্ণিঝড় মোরা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৫৭০ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার উপকূল থেকে ৪৯০কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলো। এছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এর অবস্থান ছিলো ৬২০ কিলোমিটার দূরে আর পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ–পশ্চিমে ।

সকাল আটটায় আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় মোরা আরও ঘনীভূত হয়ে পরবর্তী ১৮ ঘণ্টার মধ্যে রূপ নেবে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে।  ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলে  আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় মোরা।উপকূল অতিক্রম করার সময় বাতাসের বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার, যা ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এছাড়া আজ সোমবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে উপকূলীয় জেলা দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চলগুলো। যার মধ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা এবং সাতক্ষীরা উল্যেখযোগ্য।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবেলায় সকল উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো। তারা জানায়,সন্ধ্যার আগেই অধিকাংশ উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নেয়া হবে।

গত ২৬ মে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘু চাপটি রোববার সকালে নিম্নচাপে এবং মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। তখন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলের তালিকা অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়ে ‘মোরা’।

নাজমুল ইসলাম হৃদয়

নিউজঢাকা টুয়েন্টিফোর,

29th May,2017 ।। 6.23.00 pm bdST

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বইমেলার পর্দা নামলো আজ

বইমেলার পর্দা নামলো আজ , তবে শেষ দিনেও আশা পূরণ হয়নি প্রকাশকদের শিপংকর শীল: প্রকাশনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!