হাত বাড়ালেই

হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, অধরা রাঘববোয়াল

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে হাত বাড়ালেই মেলে মাদকদ্রব্য এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও চোলাই মদ তবে শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০নং ওয়ার্ড রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের মধ্যে। প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলিতে রয়েছে মাদক ক্রেতা-বিক্রেতাদের অবাধ বিচরণ।

গত আগস্টে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মাদক আইনে ৫৫টি মামলা হয়। এসব মামলার বেশিরভাগই র‌্যাবের দায়ের করা। থানা পুলিশের কোনো উল্লেখযোগ্য মাদক উদ্ধার নেই। নামমাত্র মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হলেও কোনো রাঘববোয়াল ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

নাসিক ১নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ সিআইখোলার আলইসলামনগরে মানিক মিয়ার মেসবাড়ির দক্ষিণ পাশে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ইয়াবা বিক্রি ও সেবন। এতে এলাকাবাসী রীতিমতো অতিষ্ঠ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান ও হাজি মানিক মিয়া বলেন, আলইসলামনগরের পশ্চিম পাশ মাদক বিক্রেতাদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এতে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে।

এদিকে শিমরাইলের এক ডজন মামলার আসামি মাদক ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ আলী ও তার ছোট ভাই মোক্তার প্রকাশ্যে ফেনসিডিল বিক্রি করছে। মাঝেমধ্যে মোহাম্মাদ আলী ও তার ছোট ভাইকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালেও মোহাম্মাদ আলীর স্ত্রী ও মেয়ে মোহাম্মাদ আলীর মাদক ব্যবসা চালিয়ে যায়।

সিদ্ধিরগঞ্জের বাগানবাড়ী এলাকার ডিসকো জয়নব মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। আরও রয়েছে ফেন্সি জলিল শাহ। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার চিহ্নিত কয়েকজন এএসআই প্রতিদিনই সাদা পোশাকে কোমরে পিস্তল বহন করে তাদের নিয়োজিত সোর্স নিয়ে গোপনে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক অভিযানে বের হলেও কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে আটক না করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে চলে যান বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এদিকে শিমরাইল, নয়াঅটি, মুক্তিনগর, রসুলবাগ, আদর্শনগর, মাদানীনগর, সানারপাড়, নিমাইকাশারী, বাগমারা, মৌচাক, মিজমিজি দক্ষিণপাড়া, বাতানপাড়া, পাগলাবাড়ী, আলআমিননগর, সাইলোগেট ও আদমজী বিহারি কলোনি মাদকের বড় স্পট।

আইলপাড়া, আরামবাগ, বউবাজার, গোদনাইল, কদমতলী, জালকুড়ি, হিরাঝিল, সিআইখোলা, পাইনাদি নতুন মহল্লা, শিমরাইল টেকপাড়া, গোদনাইল নয়াপাড়া, বার্মাশীল, এসও রোড, চৌধুরীবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

গত ৩ আগস্ট আদমজী ইপিজেডের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ঝন্টুকে ১৫ পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার সময় এসআই শামসুল আলম সজিব ও সোহেল নামে দু’জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

গত শুক্রবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোগেট এলাকায় ফেনসিডিলসহ নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলের ভায়রা মো. মিলন মিয়ার ছেলে নেহাল এবং একই এলাকার আমিরুলের ছেলে ইয়াকুবকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।

ডিবি পুলিশের এসআই শরীফুল ইসলাম ও এসআই আলমগীর হোসেন ওই দুই যুবককে কয়েক বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করে গাড়িতে উঠিয়ে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে যান।

পরে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তার ভায়রার ছেলে নেহালসহ ইয়াকুবকে ছাড়িয়ে আনেন বলে এলাকাবাসী জানায়। এ খবর এসও রোড ও বার্মাশীল এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি এবং শরীফুল দু’জনই ছুটিতে ছিলাম। এ বিষয়ে কিছুই জানি না। অফিসে আইসেন, দেখা হবে, কথা হবে।’ এসআই শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি যখন এসআই আলমগীরকে ফোন করেছেন আমি তার পাশেই ছিলাম। ওর সঙ্গে তো কথা হয়েছে।’

ফেনসিডিলসহ আটক এবং মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এসআই শরীফুল ইসলাম কিছুই বলেননি, তবে ‘অফিসে আইসেন কথা হবে’ বলে ফোন রেখে দেন।

নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গত দু’দিন ঢাকার বাইরে ছিলাম, এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’

এদিকে গত ৪ আগস্ট ১০২ পিস ইয়াবাসহ মামুন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ৯ আগস্ট সুমিলপাড়া থেকে খোকন মল্লিক হত্যা মামলার আসামি নুর হোসেনকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। ৫ আগস্ট মদিনাবাগ থেকে নুর হোসেন নামে একজনকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।

৬ আগস্ট সোলে রনি নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করে র‌্যাব। গত ৩ সেপ্টেম্বর জালকুড়ি থেকে রাবেয়া, শিউলি ও জেসমিন নামে তিন নারী ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ১২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। ৫ সেপ্টেম্বর ১০ লিটার চোলাই মদসহ হেলাল নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে, শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে জুয়ার আসর ও মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি পিস ইয়াবা ১০০-৩০০ টাকা, ফেনসিডিল প্রতি বোতল ১২০০-১৫০০ টাকা, গাঁজা এক পুরিয়া ৫০-১০০ টাকা, হেরোইন প্রতি পুরিয়া ২০০-৫০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মাদকের অবাধ বিস্তারের কারণে অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অবাধে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে।

সিদ্ধিরগঞ্জের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়, অলিতে-গলিতে অবাধে মাদক কেনাবেচার বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ফারুকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই।

গত আগস্টে ৮২টি মামলার মধ্যে ৫৫টি মাদক মামলায় ৬৫ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৮৫৫ পিস ইয়াবা, ১০২ ক্যান বিয়ার, এক কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ১৩ লিটার চেলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,জবিতে ২দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

নরসিংদীতে মসজিদ ও মন্দিরে অনুদানের চেক বিতরণ করলেন সাংসদ বুবলী

হৃদয় এস সরকার,নরসিংদী:নরসিংদীতে বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করলেন সংরক্ষিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!