হাসপাতালের

হাসপাতালের সামনের সড়কে পানিতে থই থই

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছ জলাশয়ই ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভার অন্যতম প্রজনন ক্ষেত্র। ঠিক তেমন চিত্রই দেখা গেল রাজধানীর শাহবাগে। তাও যেনতেন জায়গায় নয়, একদম হাসপাতালের সামনেই।

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের উত্তর-পর্ব পাশে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক মেডিকেল কলেজ। তার পাশেই লাগোয়া বারডেম জেনারেল হাসপাতাল এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিস।

বৃষ্টি হলে টানা অনেকদিন জলাবদ্ধতা দেখা যায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের সামনে মূল সড়কের এক-তৃতীয়াংশে। সেগুলো তখন হয়ে ওঠে এডিসের প্রজনন ক্ষেত্র।

একই চিত্র বিপরীত পাশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের সামনেও। রাস্তার পাশে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি হাসপাতালের চারপাশও আবর্জনায় সয়লাব।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগী হয়েছিল সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল দপ্তরগুলো। সম্প্রতি ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা নিম্নমুখী। পাল্লা দিয়ে কমছে সিটি করপোরেশনের অভিযানও।

সড়কের এক-তৃতীয়াংশ জলাবদ্ধ হওয়ায় এডিস মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকির পাশাপাশি পথচারীদের জন্যও সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। রোববার বিকেলে সরেজমিন গেলে হাসপাতাল-সংশ্নিষ্ট, রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, সাময়িক না- এমন দুর্ভোগ লেগেই থাকে। মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের জন্য রাস্তা সংকুচিত।

তাছাড়া ফুটপাত ভেঙে রাস্তার সঙ্গে একাকার করা হয়েছিল। সেই অংশটা রাস্তা থেকে নিচু এবং পানি সরবরাহের কোনো পথ না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি।

গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছিল। সেই বৃষ্টির পানিই শাহবাগে হাসপাতালের সামনে জলাবদ্ধতা তৈরি করে। তিন দিন পর গতকাল রোববারও সেই জলাবদ্ধতা দেখা যায়।

স্থানীয় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী জলিল মিয়া বলেন, ‘এই জলাবদ্ধতার শেষ নেই। আপনি আরও দুই-তিন দিন পর এলেও এমন অবস্থা দেখবেন।’

বারডেম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন আবদুল মোতালেব জানান, তিনি ভাগ্নেকে নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে এখানে আছেন। ভাগ্নে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। সে কারণে প্রতিদিনই তাকে আসতে হয়। প্রতিদিনই এমন অবস্থা দেখছেন।

অন্যদিকে, রাজধানীর অনেকগুলো সড়কে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। দেখ যায়, কোনো কারণে সড়ক কাটা হলে সেটি আর জোড়া লাগানো হয় না। কোনোমতে ইট-সুরকি দিয়ে গর্ত ভরাট করে দিলেও যানবাহনের চাপে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের গর্ত সৃষ্টি হয়। সড়কের পাশে, এমনকি কোনো কোনো এলাকায় মাঝ বরাবরও কিছু ম্যানহোলের ঢাকনা অজানা কারণে খোলা থাকে।

গত শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের বিপরীত পাশে দেখা যায়, ম্যানহোলের গর্তে ঢুকে পড়েছে যাত্রীবাহী চলন্ত সিএনজি অটোরিকশার সামনের চাকা। এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে এমন

অনেক বড় ম্যানহোল এবং গর্ত সড়কগুলোতে রয়েছে, যেগুলো যে কোনো সময় বড় রকম দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

প্রায় এক বছর আগে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছিল আরামবাগ-কমলাপুর সড়কে। কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ রয়েছে মেরামতের কাজ। এখানে এক পাশে কোনোমতে যানবাহন চলাচল করছে।

সড়কের অন্য পাশ এখনও ভাঙা। পাশের এবিসি কলোনি কাঁচাবাজার সড়কেরও দৃশ্য একই। পুরো রাস্তা যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, এমনকি পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।

মিরপুরের কালশীতে রাস্তা কেটে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। মেরামতের কোনো লক্ষণ নেই বলে জানান স্থানীয়রা। একই অবস্থা পাশের মিরপুর ১১, সাড়ে ১১, ৬ ও ৭ নম্বরেও।

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে হজক্যাম্প হয়ে দক্ষিণখান যাওয়ার পুরো রাস্তাটিই দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরে আছে। এই সড়ক মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের ভেতরের সড়কগুলোর অবস্থাও করুণ। মেরামতের জন্য কেটে আর জোড়া লাগানো হয়নি। প্রিয়াঙ্কা সিটিতে যাওয়ার রাস্তাটিরও একই হাল।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,পুরান ঢাকায় এসি বিস্ফোরনে দগ্ধ ৩ শ্রমিক

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ময়মনসিংহের ত্রিশালে যে কারণে সন্তানের লাশ নিতে রাজি হননি পিতা

তাসনীমুল হাসান মুবিন,ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত আরাফাত হোসেনের (১৭) লাশ দাফন করতে নিতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!