Home / প্রযুক্তি / হাবাগোবা আর ত্যাড়া বাঁকা বাবাটাই
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

হাবাগোবা আর ত্যাড়া বাঁকা বাবাটাই

ইসমাইল হোসেন টিটু: কাজী ওয়াজেদ বর্তমানে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি।

কখনো অপরাধমূলক, কখনো সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে, কখনো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান দিয়ে রীতিমতো লাইক, কমেন্ট, শেয়ার চোখে পড়ার মতো।

এবার বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসা শাসন বারণ কথাবার্তা নিয়ে হাজির হন ফেসবুক আইডিতে।  তার ফেসবুক স্টাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো: 

একবার বলে ডানে ঘুরো, আবার বলে বামে। এভাবেই ছোট্ট মেয়েটা আমার বারবার পোজ পরিবর্তন করে আমার ছবি তুলছে। হাবাগোবা আর ত্যাড়া বাঁকা বাবাটাই যেনো ওদের কাছে রাজপুত্র ! কোনভাবেই বাবার দৃষ্টিকটু ছবি উঠানো যাবে না।

বাবাকে কোন ক্রমেই অসুন্দর দেখানো যাবে না। ছোট মেয়েটার মধুর অত্যাচারে মাঝে মাঝে হাপিয়ে উঠি। শুক্রবার আসলেই মনে ভয় ধরে, আজ না আবার বলে, “তোমার মাথার চুলে হট ওয়েল ম্যাসাজ এর তারিখ আজ”! মনে উঠলেই আমি ভয়ে শেষ ! পালিয়ে বাঁচার জন্য এঘর ওঘর দৌড়েও নিস্তার নেই। যা বলা সেই কাজ ! জোর করে ধরে নিয়ে মাথায় ঢেলে দিবে রাজ্যের তেলসহ কত কি !

চলতে থাকবে চুল পড়া বন্ধ থেরাপি “হট ওয়েল ম্যাসাজ”! বাবার জন্য বিচক্ষন বিউটিশিয়ান ! বাবার শরীরে কাতুকুতু ফ্রি! মধুর অত্যাচারই বটে ! অকৃত্রিম ভালবাসায় ভরপুর আনন্দের মাঝে এরূপ মধুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চেচামেচি। বিচারকের ভূমিকায় বড় মেয়ে আর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মা।

কে শোনে কার কথা ?? অফিসে বের না হওয়া অথবা টিচার না আসা পর্যন্ত চলতে থাকে একের পর এক এই মধুর নিপীড়ন(!) পড়াশুনার ব্যস্ততা বাড়লে একটু নিস্তার। তাই শত কষ্টের মাঝেও ওদের কথা মনে পড়তেই প্রশান্তি ! ওরাই সব বাবাদের অক্সিজেন, তাইতো মা জাতের এই প্রিয় সন্তানদের জন্যই বেঁচে থাকা সবার!

২০১৮ এর জানুয়ারী মাসে প্রচন্ড শীতে কাঁপছে সবাই। সেসময় ছবিতে আমার বাম পাশের ছোট্ট মেয়েটি প্রতিদিনের ন্যায় ওর নানী (ছবিতে ডানে)-কে নিয়ে শুধুমাত্র একটা পাতলা জামা পরে খালি পায়ে শীতে কাঁপতে কাঁপতে ওসি বাড্ডার কক্ষে হাজির। কিছু টাকা দিয়ে বললাম, “এখনি শীতের কাপড় আর জুতা কিনে পরবি”।

ওর নানীর সাথে রাস্তায় কুড়ে ঘর তুলে আর মানুষের কাছ থেকে চেয়ে চেয়ে সংসার চালানো মেয়েটির আত্মসম্মানবোধ দেখে ধাক্কা খেলাম।

ও বললো স্যার, “আমরা আজ আর কোন টাকা নেবো না, আমার মাকে জেল থেকে বের করে আনেন”। ভেবেছিলাম পথে থাকা মানুষগুলোর অনুভুতি আর কৃতজ্ঞতাবোধ হয়ত অতটা প্রখর হয় না।

কিন্তু গতকাল ওরা আমার ধারনা ভুল প্রমান করে দিল। ধানমন্ডি লেক পাড়ে আশুরার ডিউটিতে ওর মা আমাকে দেখেই কাছে এসে বললো, স্যার আপনি ? ভেবেছিলাম জেলে পাঠানোর কারনে আমাদের প্রতি একটু রুষ্টই হবে হয়ত। কিন্তু দেখলাম বরং ওদের মধ্যেই কৃতজ্ঞতা আর স্বার্থহীন ভালবাসা অপরিসীম।

ওর বৃদ্ধা নানী আমার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করলো। আমার ফোন নম্বর চাইলো, বললো স্যার, “আপনি কোথায় বদলী হয়ে চলে গেছেন ? আপনাকে অনেকদিন খুঁজেছি”।

ছোট্ট মেয়েটিও প্রকাশ করলো তার ভালবাসা। বুঝলাম অতিশয় দরিদ্র এই মানুষগুলো কতটা আন্তরিক, কতটা পরিস্কার ওদের হৃদয়। অভাব ওদের সত্যিই অমানুষ করেনি।

ঘটনাক্রমে দেখা হওয়ায় ওদের মানসিক অবস্থা দিয়ে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছে ওরা, কিছুটা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় হাসি দিয়ে হলেও দিচ্ছে প্রতিদান।

ছেলেধরা বিষয়ক গুজব, গনপিটুনি রোধ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার দায়িত্ব রাষ্ট্রের শুধু একার নয়। আসুন আমরা সবাই এসবের বিরুদ্ধে সচেতন হই, সবাইকে সচেতন করি।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্স এর সমাপ্তি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

About ahmed raju

ইন সা আল্লাহ নিউজ ঢাকা ২৪ এক দিন অনেক দূর এগিয়ে যাবে আপানাদের সাথে নিয়ে। :)

Check Also

অবৈধ স্থাপনা

বুড়িগঙ্গা তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বি আই ডাব্লিউ টির অভিযান অব্যাহত

ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দখল ও দূষনমুক্ত করনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় ...

নাট্যোৎসব

রাজবাড়ীতে নাট্যোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

শেখ রনজু আহাম্মেদ রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ “জঙ্গি-অবক্ষয়-দুর্নীতি, মানবে না এ সংস্কৃতি” স্লোগানে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *