মা দিবসে ভালাবাসা রইলো পৃথিবীর সমস্ত মায়ের জন্য

মা। পৃথিবীর মধুরতম  দরদ ভরা শব্দ একটি। মা শব্দটিতেই রয়েছে পৃথিবীর সমস্ত তৃপ্তি। তাতেই যেন সমস্ত ভালোবাসা। এ  পৃথিবীতে মা এর চেয়ে আপন আর কে-ই বা হতে পারে?  দুঃখের দরদী আমার জনম দুঃখী মা, আমার গর্ভধারিণী মা।  মা মানেই তো পৃথিবী।  মা মানেই সব কিছু। মা মানেই বেচে থাকার কারন।

স্বার্থের এই পৃথিবীতে সম্পর্কের বেড়াজাল ছিন্ন করে যে কেউ যে কোন সময় আপনাকে ত্যাগ করতে পারে। চলে যেতে পারে আপনার প্রেম-আবেগের বন্ধনের প্রিয়তমা প্রেয়সী ও। কিন্তু একমাত্র মার স্নেহ ভালোবাসার বন্ধন কখনোই ছিন্ন হবে না।

মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা আর হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসার কথা প্রতিটা ধর্মগ্রন্ধেই বলা হয়েছে। ইসলাম ধর্মে মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহশত এর কথা বলা হয়েছে। মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রেক্ষিতেই প্রতিবছর পালিত হয় মা দিবস।

কি ভাবে এলো মা দিবস:

আমেরিকায় আনা জারভিস নামের এক মহিলা মায়েদের অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন।
১৯০৫ সালের দিকে জারভিস মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য উদ্দোগী হন। ওই বছর তিনি তার স্কুলে এ দিনটি মা দিবস হিসেবে পালন করেন।

১৯০৭ সালে এক রবিবার মারিয়া তার স্কুলে এক বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। এর পর ১৯১৪ সালের ৮মে মার্কিন কংগ্রেসে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস হিসাবে ঘোষনা করা হয়।

মা দিবস নিয়ে কিছু কথা:

প্রতি বছর বিশ্বের অনেক দেশেই মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার পালিত হয় বিশ্ব মা দিবস। বাংলাদেশেও এ দিবসটি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হয় প্রতি বছর ই।অনেকের কাছেই মাকে ভালোবাসার জন্য, মায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে পালিত এ দিবসটির গুরুত্ব অনেক। কিন্তু মাকে ভালোবাসার জন্য, মায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য  বছরে নির্দিষ্ট দিনক্ষন ঠিক করে নেয়া কতোটা যুক্তি সঙ্গত?

মা শুধুমাত্র সন্তানকে জন্মই দেয় না। একমাত্র মা ই পারেন নি:স্বার্থ ভাবে সন্তানের জন্য সব কিছু ত্যাগ করতে। দশ মাস দশ দিন একটা মা তার সন্তানকে গর্ভেধারন করে কতোই না কষ্ট করেন, কতোই না যন্ত্রনা সহ্য করেন। প্রসব বেদনার তীব্র কষ্ট একমাত্র মা ই  উপলব্ধি করে থাকেন। মায়ের ভালোবাসায় কোন স্বার্থ নেই । নেই কোন প্রাপ্তি অথবা প্রত্যাশা।

মা হচ্ছে সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, বন্ধু।  একটা মা তার সন্তানের জন্য করতে পারে না এমন কোন কাজ নেই । সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সুখের কথা ভেবে মা যে কোন কষ্ট যে কোন বিপদ হাসি মুখে মেনে নেয়।

কিন্তু বর্তমানে কতোজন সন্তান মায়ের এই কষ্ট এই বিসর্জনকে মনে রাখে? কতোজন সন্তান মাকে মায়ের মতো ভালোবাসে? কেনই বা অনেক মায়ের ঠিকানা আজ বৃদ্ধাআশ্রম ? কেনই বা সন্তানের অনেক ভালো অবস্থানে থাকার পরে ও অনেক মা দের না খেয়ে অনাহারে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে?

মা ডাকের মধ্যে কতো যে পরিতৃপ্তি তা বলে বুঝানো মুষ্কিল। প্রতিটা মুহুর্তে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে তার সন্তানকে চলার উপযোগী করে গোড়ে তুলে একটা মা।

মায়ের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়। তবুও প্রতিটা সন্তানের উচিত মাকে সর্বস্ব দিয়ে ভালোবেসে যাওয়া। মাকে মায়ের সব সুখ এনে দেবার চেষ্টা করা।

প্রত্যেকটা মায়ের মনের কথা যেমন আমার সন্তান যেন খাকে দুধে- ভাতে। তেমনি করে প্রতিটি সন্তানের ভাবনা হওয়া উচিত :- ‘জননী আমার তুমি, পৃথিবী আমার, তোমার চরণ ছুঁয়ে বন্দনা গাই, হাজার বছর পরে যদি আমি আসি ফিরে তোমারই কোলেতে পাই যেন ঠাঁই, মা গো।’

মাকে শ্রদ্ধা করার জন্য বা ভালোবাসার জন্য কোন বিশেষ দিন নেই। মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রতিটা দিনের প্রতিটা মুহুর্তের। তার পরেও বিশ্বের সকল মানুষ এক সাথে যাতে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে তার জন্য পালিত হয় আন্তর্জাতিক মা দিবস। আন্তজার্তিক মা দিবসের ভালোবাসা রইলো পৃথিবীর সমস্ত মায়ের জন্য।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বইমেলার পর্দা নামলো আজ

বইমেলার পর্দা নামলো আজ , তবে শেষ দিনেও আশা পূরণ হয়নি প্রকাশকদের শিপংকর শীল: প্রকাশনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!