লঞ্চ ঘাট সরানোর দাবীতে দিনভর বিক্ষোভ, বিদ্যুৎ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

সদরঘাট থেকে লঞ্চ টার্মিনাল সড়িয়ে অনত্র নেয়া এবং বিআইডব্লিউটিএ এর বন্ধ করে দেয়া ঘাটগুলো পুনরায় চালু করার দাবীতে কেরানীগঞ্জের আগানগরে বিক্ষোভ করেছে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝিরা।

কেরাণীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভ কর্মসূচীতে স্থানীয় সকল ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহন করেন। এসময় তারা এসকল খেয়াঘাট খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র এ ধরনের কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্রতিবাদ মিছিলে ফেটে পরেন। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বন্ধ করে দেয়া ওইসব খেয়াঘাট খুলে না দেয়া পর্যন্ত এ ধরনের নানা কর্মসূচী চালিয়ে যাবার পাশপাশি বৃহৎ আন্দোলন কর্মসূচীরও হুমকি প্রদান করেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

 

গত সপ্তাহে সদরঘাটে লঞ্চের সাথে ধাক্কা লেগে নৌকা ডুবির ঘটনা বন্ধের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ। তারই ধারাবাহিকতায় কেরানীগঞ্জের গুদারঘাট থেকে সদরঘাট, তৈলঘাট থেকে সদরঘাট, কালীগঞ্জ থেকে সিমসন ঘাটে নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিয়ে কেবল ওয়াইজঘাট থেকে আগানগর ঘাটে নৌকা চলাচল করার ঘোষনা দেয়।

এদিকে হঠাৎ করে ঘাট গুলো বন্ধ করে দেয়ার কারনে বিপাকে পরে গুদারাঘাটের ব্যবসায়ী এবং নৌকার মাঝিরা । মঙ্গলবার সকাল থেকেই আগানগর গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা সবাই একযোগে তাদের দোকানপাট বন্ধ রাখে এবং রাস্তায় নেমে ঘাট পুনরায় চালু করে সদরঘাট লঞ্চ ঘাট অনত্র সরিয়ে নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করে। এসময় নৌকার মালিক ও মাঝিরাও তাদের সাথে বিক্ষোভ এ অংশ নেয়।

খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সাংসদ বিদ্যুৎ,জ্বালাণী ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগনের পাশে অবস্থান নিয়ে মুঠোফোনে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের সাথে এ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান চান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। কথা বলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে সচিবের সাথেও। এসময় তিনি খেয়াঘাট নিয়ে কেরাণীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টির আলোচনার এক পর্যায়ে খেয়াঘাট পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় বিআইডব্লিউটিএ কতৃপক্ষ। এতে করে স্বস্তি ফিরে আসে কেরাণীগঞ্জের ব্যবসায়ী মহলে। এসময় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের ভুমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে তার ভুয়সী প্রসংশা করে ব্যবসায়ী মহল।

 

এ ব্যপারে জানতে চাওয়া হলে-কেরাণীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ শেখ কাওসার বলেন, এখানে ৩শটি বহুতল মার্কেটে প্রায় ৫ হাজার গার্মেন্টস কারখানা ও ৮ হাজার শো-রুম রয়েছে। যেখানে প্রায় দুই লক্ষাধিক শ্রমিক ( নারী-পুরুষ) কাজের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। ঘাট নিয়ে ২০০৮ সালে একবার সমস্যা হয়েছিল ২০০৮ সালে, তখন বিক্ষুদ্ধ জনতা তিনটি লঞ্চ পুড়িয়ে দেয়। তৎকালীন বিআইডব্লিউটি কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্দ্যেগো সদরঘাটে নৌকা চলাচলের জন্য ঘাট করে দেয়। এবং ঘাট গুলো দেখ ভালের দায়িত্ব নেয়। এতো দিন ঠিক ঠাক ছিলো এখন আবার এমন ঝামেলা। ঘাট বন্ধ করে দিলে ব্যবসায়ী সহ সাধারন জনগন নানা ভোগান্তিতে পরবে। আমাদের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নিজে এসে ব্যবসায়ীদের এ সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন। তিনি আগামীকাল নৌমন্ত্রীর সাথে বসে সমস্যার সমাধান করে দিবেন বলে আশস্ত করে গেছেন আমাদের। তার প্রতি রইলো অনেক কৃতজ্ঞতা।

গুদারাঘাট আঞ্চলিক শাখা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সুনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মুসলিম কালেকশনের স্বত্বাধিকারি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মো.মুসলিম ঢালী বলেন,বন্ধ করে দেয়া এসকল ঘাট দিয়ে আমাদের ব্যবসায়ী পল্লীর হাজার হাজার পাইকার তাদের মালামাল নেয়াসহ রাজধানীর ৪০-৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী কেরাণীগঞ্জ থেকে এসকল ঘাট দিয়ে নৌকাযোগে রাধানীতে যায়। কাজেই এসকলঘাট বন্ধ হয়েগেলে ঘাট সম্পৃক্তরা সকলেই বিপদে পরে যাবো। তিনি প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

করোনায় থাবায় ঘুড়ে দাড়াতে পারছে না কেরানীগঞ্জের কম্পিউটার এমব্রয়ডারী ব্যবসায়ীরা

দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ গার্মেন্টস পল্লী অবস্থিত কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ এলাকায়। কম্পিউটার এমব্রয়ডারী ব্যবসা এই গার্মেন্টস পল্লীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!