শবে বরাত

শবে বরাত ; আমাদের করনীয় ও বর্জনীয় কি ?

শবে বরাতইসলামী আক্বীদা ও বিশ্বাস মতে বছরের প্রতিটি মাস, সপ্তাহ, দিন, ঘন্টা ও সেকেন্ড মানুষের জন্য কল্যাণকর। কোনো সময়ের ব্যাপারে অকল্যাণ ও অশুভ হওয়ার ধারণা করা ইসলামী আক্বীদা বিরোধী। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান, কোনো সময় কিংবা জামানাকে অশুভ ও অকল্যাণকর মনে করা যাবে না। অকল্যাণকর মনে করার অর্থই হলো, আল্লাহ পাক কে অকল্যাণকর মনে করা। বরকত ও মর্যাদার দিক থেকে এ ধরণের শ্রেষ্ঠত্বের কথা কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে উম্মতকে জানানো হয়েছে। যে সকল রাত্রে মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্বের কথা কুরআন শরীফে এসেছে, তা হলো- শবে মেরাজ, শবে বরাত, শবে কদর ও দুই ঈদের রাত্রি।

শবে বরাত কুরআনের ভাষায় লাইলাতুল মুবারক, হাদিসের ভাষায় লাইলাতুল বারাত ও সাধারণ মুসলমানদের মাঝে শবে বরাত নামে প্রসিদ্ধ।

  • এ সম্পর্কে রাসুলে আকরাম(সাঃ) বলেন, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’আলা এই রাতে বান্দাদেরকে ডেকে ডেকে বলতে থাকেন, আছো কি কেউ গোনাহে জর্জরিত? আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি ক্ষমা করে দেব, আছো কি কেউ অভাবগ্রস্ত? আমার কাছে রিজিক চাও,আমি রিজিক দেব।আছো কি কেউ রোগাক্রান্ত ও শোকাক্রান্ত? আমার কাছে রোগ-শোক থেকে পানাহ চাও, আমি পানাহ দেব।এভাবে আল্লাহ তা’আলা সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত পাপ,অভাব-অনটন,রোগ ইত্যাদিসহ বিভিন্ন দুনিয়াবি ও আখিরাতের ফেতনা উল্লেখ করে ডাকতে থাকেন।(ইবনে মাজাহ,বায়হাকী)
  • হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত অন্য সবাইকে মাফ করে দেন।’ [বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান]
  • হযরত আয়েশা রা. বলেছেন, একরাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হারিয়ে ফেললাম। তখন আমি বের হয়ে দেখলাম, তিনি জান্নাতুল বাকিতে আছেন। তিনি তখন বললেন : তুমি কি আশংকা করছিলে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার ওপর অন্যায় করবেন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি ভেবেছিলাম, আপনি হয়তো আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর নিকট গিয়েছেন। তিনি বললেন : নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন, তখন তিনি বনি কালব গোত্রের মেষপালের পশম সমান গোনাহ ক্ষমা করে দেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস : ৭৩৯; মুসনাদে আহমদ, হাদীস)

উপরিউক্ত হাদিসগুলো থেকে বুঝা যায় শবেবরাত হল রোগ-শোক,অভাব -অনটন, গোনাহ থেকে মুক্তি চাওয়ার রাত।আর গোনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য খাটি তওবা করা আবশ্যক। খাটি তওবার জন্য ৪টি শর্ত জরুরী।

  •  অতীতের যত গোনাহ হয়ে গেছে, তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া,
  • যে গোনাহ থেকে আমি তওবা করব, ঐ গোনাহ এখনি বন্ধ করে দেওয়া।গোনাহ বন্ধ না করে শুধু মুখে তওবা তওবা বললে, তওবা কবুল হবেনা।
  •  ঐ গোনাহ সামনে আর কখনওই করব না। মনেমনে এমন সংকল্প করা।
  •  যে গোনাহ থেকে আমিম তওবা করব। এই গোনাহ যদি কোন বান্দার হক তথা লেন-দেন এর সাথে সম্পর্কিত হয় তাহলে পাওয়ানা দারের পাওননা আদায়ের ব্যবস্থা করা।

শবে বরাত উপলক্ষ্যে কি করব? কি করব না?

শবে বরাত করণীয়ঃ

শবেবরাত উপলক্ষে ৬টি আমলের কথা হাদিস ও ফেকার কিতাবে পাওয়া যায়।
১-)রাতে নফল নামাজ পড়া,
২-)পরের দিন রোজা রাখা,
৩-)দুয়া করা-বিশেষ করে গোনাহ থেকে মুক্তি চাওয়া,
৪)যারা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন-মুমিন নর নারী,শহিদ তাদের জন্য দুয়া করা,
৫-)একাকী কবর জেয়ারত করা,
৬-)ফোকাহে কেরাম গোসল করাকে মুস্তাহাব বলেছেন।

শবে বরাতে বর্জনীয় আমলঃ

১-) এই রাতে সম্মিলিত না হয়ে একাকী আমল করা উত্তম।কারন সম্মিলিত হওয়ার ক্ষেত্রে আমলের চাইতে ফেতনাটাই হওয়ার আশংকা বেশি।
২-) আতশবাজি করা যাবেনা।
৩) হালুয়া রুটি বিতরন করা বা নিজ ঘরে তৈরি করা যাবেনা।
কারণ এতে অহেতুক সময় নষ্ট হয়, এবং বর্তমানে এটা একটা বড় ধরনের ফেতনার আকার ধারন করেছে।
৪-) আলোকসজ্জা করা যাবেনা।
৫-) মাইকে কুরআন তেলাওয়াত বা হামদ নাত পরিবেশন করে অন্যের আমলে ব্যাঘাত ঘটানো যাবেনা।
৬-) কবরস্থানে ভিড় করা বা মেলা বসানো যাবেনা।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে যাবতীয় পেরেশানি ও গোনাহ থেকে মুক্তিদান করুন, আমীন।

 

 

মো: শাহাদাত হোসেন।

নিউজ ঢাকা ২৪ ডটকম।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে দূর্বৃত্তের অতর্কিত হামলায় গোয়েন্দা পুলিশ আহত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে দূর্বত্তের অতর্কিত হামলায় মো: ইমাম হোসেন (৩৪) নামে এক গোয়েন্দা পুলিশ আহত হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!