সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত দেয়া আগামী দিনের বড় চেলেঞ্জ

 

কেরানীগঞ্জে আইটি পার্কের ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন

 

বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরূল হামিদ বিপু বলেছেন, ২০০৯ সালে যখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলো তখন অনেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়া রশিকতা করেছে। মানুষ বলতো কিসের ডিজিটাল বাংলাদেশ যেখানে বিদ্যুৎ থাকে না। তখন আমাদের লক্ষ্য ছিলো কত দ্রুত দেশকে বিদ্যুতায়ন করা যাবে। এখন আমরা সারাদেশকে বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসছি । এখন আমাদের লক্ষ্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতায়ন। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত দেয়া আমাদের এখন বড়ো চেলেঞ্জ।

গতকাল মঙ্গলবার ১২ এপ্রিল কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসন প্রজেক্ট এলাকায় ৭ তলা বিশিষ্ট হাইটেক পার্কের ভিত্তি প্রস্থ স্থাপন কালে প্রধান অতিথির বক্ত্যবে তিনি এসব কথা বলেন।

নসরুল হামিদ আরো বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রীর কারনে দেশ ডিজিটাল হয়েছে। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূর দর্শিকতার কারনে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই যে গত দুই বছর এতো বড় একটা পেন্ডামিক সিচিউশন গেলো, ২০০৯ সালেই যদি আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে না ভাবতাম তা হলে গত দুই বছরে বাংলাদেশ দেউলিয়া হয়ে যেত। গত দুই বছরে  কাজ কর্ম যা হয়েছে সব ডিজিটাল মাধ্যমে। টাকার লেনদেন হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে। ভারতকে ধন্যবাদ তাদের ফাইনেন্সের কারনে আমরা এমন আইটি পার্ক করতে পারছি। কেরানীগঞ্জে আইটি পার্ক নির্মানের কারনে, আইটি সেক্টরে কেরাণীগঞ্জবাসীও এখন গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশের ১২টি জেলায় ১২টি আইটি পার্ক স্থাপনের জন্য ভারতের এনওসি প্রকল্পের অধীনে কেরানীগঞ্জের আইটি পার্কের ভিত্তি প্রস্থ স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরূল হামিদ বিপু। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো: মারুফ হোসেন সরদার, কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ন কুমার ঘোষ, এবং হাইটেক পার্কের প্রকল্প পরিচালক এ কে এম ফজলুল হক। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় নিযুক্ত ইন্ডিয়ান হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ভারত সরকারের এনওনি অধীনে এই হাইটেক পার্ক নির্মান প্রকল্পটি আইটি সেক্টরে ভারত বাংলাদেশ সহযোগীতার একটি গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ এবং এটি আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরো উচুতে নিয়ে যাবে। পবিত্র রমজান মাসে এই প্রকল্পটির কাজ শুরু হলো, তাই আমি নিশ্চিত বাকি ১১টি পার্কের কাজ ও দ্রুত শুরু হবে। এই হাইটেক পার্ক গুলো বাংলাদেশের আইটি সেক্টরকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং নতুন নতুন সম্ভাবনার দার উন্মুক্ত করবে। আমাদের জন্য আরকেটি গর্বের বিষয় হলো, এই প্রকল্পটি পরিবেশ বান্ধব হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশ ও আইটি সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছে। তার সাহসিকতার ফল আজকে দেশের ১৭ কোটি মানুষ ভোগ করছে। বাংলাদেশের ১৩ কোটি মানুষকে ইন্টারনেটে যুক্ত করেছেন। ২০ লক্ষ তরুন তরুনিকে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের দুই হাজার এক শ সার্ভিস কে ডিজিটাল প্লাটফর্মে এনেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে ১৭ হাজার উদ্দ্যোক্তার মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬০ লাখ মানুষকে ডিজিটাল সেবা জনগনের মাঝে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। ধন্যবাদ জানাই ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক সজিব ওয়াজেদ জয়কেও। তার চিন্তা ভাবনার  কাারনেই আজকে এই হাইটেক পার্ক নির্মিত হয়েছে। আজকে তার কারনে ৯৯৯ জরুরী সেবা নাম্বারের উদ্ভাবন হয়েছে। আর প্রতিনিয়ত এর সুফল ভোগ করছে দেশের প্রতিটি জনগন।  ভারত সব সময় আমাদের সহযোগীতা করেছেন। ১৯৭১ এ যেমন ভারত আমাদের সহযোগীতা করেছেন এখন ও তেমনি আমাদের সহযোগীতা করছে ভারত। কেরানীগঞ্জের যেখানে হাইটেক পার্ক নির্মান করা হয়েছে এই খানে একটা কর্মপরিবেশ তৈরী হবে, বিনোদন কেন্দ্র তৈরী হবে। কেরানীগঞ্জ হবে বাংলাদেশে একটা রোল মডেল, বাংলাদেশের অন্যান্য এড়িয়া কেরানীগঞ্জকে ফলো করবে।

অনুষ্ঠানে তরুন ও উদ্দ্যামী ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে বিনামূল্যে ল্যাপটপ দেওয়া হয়।#

 

রাজু আহমেদ

০১৮৭৭৩৮৭৭৩৮

১২ এপ্রিল ২০২২

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে [sharethis-inline-buttons]

Check Also

কেরানীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাচ্ছে ১৫ গৃহহীন পরিবার

দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ মুজিবর্বষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পরে আওতায় …

error: Content is protected !!