Breaking News
Home / সমস্যা ও সমাধান / ফিরতি মেসেজের লোকজন ৭ নম্বর লাইনে দাঁড়ান

ফিরতি মেসেজের লোকজন ৭ নম্বর লাইনে দাঁড়ান

ভাই, আমার টাইম ৯টায়। এই যে মেসেজ, আর বাইকের (মোটরসাইকেল) কাগজপত্র। এখন আমার ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন স্মার্ট কার্ডটা দেন কাইন্ডলি।’

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় মিরপুর ১৪ নম্বর বিআরটিএর কার্যালয়ে টিনশেড ভবনের এক কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলছিলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। এ সময় ভেতর থেকে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ফিরতি মেসেজের লোকজন ৭ নম্বর লাইনে দাঁড়ান।

লাইনে দাঁড়ানোর কথা শুনে আনোয়ার হোসেন পাশে তাকিয়ে দেখেন পিছনে সিরিয়ালে শ’খানেক লোক দাঁড়িয়ে আছেন। এত সকালে এত লম্বা সিরিয়াল দেখে তার চোখ ছানাবড়া। নিরুপায় হয়ে লাইনের পেছনে দাঁড়ান তিনি। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে তার পেছনেও জনা বিশেক মানুষের লাইন দাঁড়ান। ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে মোটরসাইকেলের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে পেয়ে তার চোখেমুখে হাসি ফুটে ওঠে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ার হোসেন বলেন, সাত সকালে অনেকক্ষণ লম্বা লাইনে দাঁড়ালেও হাতে ডিজিটাল কার্ড পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এতদিন কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হত। অনেক সময় কাগজ হারিয়ে যেত। ডিজিটাল স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রদানের ফলে এখন মানিব্যাগে তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তবে বিআরটিএ-তে আগত শত শত লোকজনের বসার জন্য ওয়েটিং রুম ডিজিটাল বোর্ডের মাধ্যমে সরবরাহ করার ব্যবস্থা থাকলে ভালো হত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে মিরপুর বিআরটিএ পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সকাল ৯টার আগেই শত শত মানুষ মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ছোটবড় বাস নিয়ে হাজির হয়েছেন। কেউ গাড়ির ফিটনেস, কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে আবার কেউবা ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ বা কাগজপত্র জমা দিতে এসেছেন।

নির্দিষ্ট কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই কাজ করছেন। তবে আগের মত দালালের সেই উপদ্রব চোখে পড়েনি। কাউন্টারগুলো দ্রুত গতিতে কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

বিআরটিএর কর্মকর্তারা বলেন, নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলে কাজের মান আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। বিআরটিএ-তে আগে দালালের মারাত্মক প্রভাব থাকলেও এখন তা আর নেই। নিয়ম মেনে যে কেউ আবেদন করলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ফিটনেস সার্টিফিকেট পেয়ে যাচ্ছেন।

তবে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে কাঙ্ক্ষিত মানের সেবাদানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় অনেক সময় সেবা দিতে বিলম্ব হয় বলেও জানান তারা।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে আরও দেখা যায়, বহিরাগত এক ব্যক্তি ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড সংগ্রহকারী ব্যক্তিদের ডেকে ২০ টাকার বিনিময়ে কার্ডের মধ্যে মেশিন দিয়ে মোবাইল নম্বর লিখে নিতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

তিনি জানান, স্মার্ট কার্ডের মধ্যে মোবাইল নম্বর লিখে দেন তিনি। এর ফলে স্মার্ট কার্ড কখনো কোথাও হারিয়ে গেলে ওই মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে তা ফেরত পেতে পারেন।

সূএ:জাগো নিউজ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

About নিউজ ঢাকা ২৪

Check Also

পেটের তাগিদে জুয়ার বোর্ডে চাক‌রি করি স্যার‌

স্যার, আমা‌দের থ্রি-পিসটা পর‌তে দেন। এখা‌নে পে‌টের তা‌গি‌দে চাক‌রি ক‌রি। ও‌য়েস্টার্ন ড্রেস না পর‌লে চাকরি ...

পাঁচ পুলিশের ‘ইয়াবাকাণ্ড’

ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পুলিশের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ল এক মাদক ব্যবসায়ী। সেই ইয়াবা উদ্ধারও হলো। কিন্তু ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *