জবির পরিকল্পনা দপ্তরে সিনিয়র কর্মকর্তাকে অপদস্থ করার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের উপ-পরিচালক হিমাদ্রী শেখর মন্ডলকে অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে একই দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মাসুদা আক্তারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন হিমাদ্রী শেখর।

মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই কর্মকর্তা।

অভিযোগ পত্রে হিমাদ্রী শেখর উল্লেখ করেন, গত ৩০ অক্টোবর পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ১৩০৪ রুমটি খালি হয়েছে শুনে এ. কে. এম. কামরুজ্জামান, সেকশন অফিসার (গ্রেড-১)-কে সাথে নিয়ে দেখতে যাই। রুমে গিয়ে দেখি জনাব মাসুদ আক্তার, সহকারী রেজিস্ট্রার চেয়ার টেবিল সাজিয়ে বসে আছে। আমি প্রথমে সালাম বিনিময় করে জিজ্ঞাস করি আপা আপনি যে এই রুমে বসেছেন তার কোন অনুমতি নিয়েছেন কিনা। তার উত্তরে তিনি বলেন নায়লা আপা আমাকে রুম দিয়ে গেছে। আমি তাকে (মাসুদা আক্তার) জিজ্ঞাসা করি নায়লা আপা কি রুম দিতে পারে? তখন প্রতিউত্তরে তিনি আমাকে বলে তকে বলতে হবে। তুই কে? আমি তখন বলি আমি ডেপুটি ডিরেক্টর। তারপর মাসুদা আমাকে উত্তেজিত গলায় বলে ১৮ বছর ধরে এখানে চাকরি করি। তর মত ডেপুটি ডিরেক্টর আমি মানি না। একইসাথে বেয়াদব ও অসভ্য বলে গালিগালাজ করে আমাকে। তখন আমি জনাব এ. কে. এম. কামরুজ্জামানকে সেকশন অফিসার (গ্রেড-১) সাথে নিয়ে রুমের বাহিরে চলে আসি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাসুদা আক্তার আমাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ ও উচ্চ-বাচ্চ্য করতে থাকে, যা দপ্তরের পরিচালকের রুম থেকে সকলে শুনতে পায়। তার কিছুক্ষণ পর প্রকল্প পরিচালক মহোদয় কক্ষে উপস্থিত হলে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মুখে বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারার স্যারের নিকট বিষয়টি মৌখিকভাবে অবগত করেন। পরিচালকের রুমে বসে থাকার সময়ও মাসুদা উত্তেজিত গলায় আমাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিতে থাকেন।

হিমাদ্রী শেখর মন্ডল বলেন, আমার সাথে উত্তেজিত হয়ে মাসুদা আক্তার অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে৷ যা দপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তাই দেখেছেন৷ দপ্তরের পরিচালকের সুপারিশ সহ রেজিস্ট্রার স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার সম্পর্কে বানোয়াট কথাবার্তা বলছে মাসুদা আক্তার। আমি অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় যথাযথ বিচার চাই৷ তদন্ত হলেই সবকিছু বেরিয়ে আসবে।

তবে গত ৩১ অক্টোবর মাসুদা আক্তারও হিমাদ্রী শেখরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের কাছে জমা দেন বলে জানান৷ তিনি বলেন,গত ৩০ অক্টোবর আমি চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় এই দপ্তরের উপ-পরিচালক হিমাদ্রী শেখর মন্ডল তার সাথে একই দপ্তরের সেকশন অফিসার কামরুজ্জামান রাসেলকে নিয়ে রুমে প্রবেশ করে। এরপরই তিনি জোর করে রুম দখল নিয়েছেন কি না জানতে চান। ওই দিন দুপুরের মধ্যেই এই টেবিল যেন বাইরে চলে যায়। তারপর সে উত্তেজিত হয়ে আমার গায়ে হাত তুলতে উপক্রম হয় তখন দপ্তরের অন্য কলিগরা তাকে থামাতে চেষ্টা করেন। এই ব্যাপারে আমিও রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ দিয়েছি৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের উপ-পরিচালক সৈয়দ আলী আহমেদ বলেন, হিমাদ্রী শেখরের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়েছে বলে পরে শুনেছি। কিন্তু হিমাদ্রী মারতে উদ্যত হয়েছে কিনা বা অন্য কোন বিষয়ে আমার জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাদাভাবে বসেছি৷ তদন্ত কমিটি করা হবে। তদন্তে পাওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই বাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, দুইটা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, বিষয়টি আমি অবগত। আমি চাই এর সমাধান হোক। এজন্য আগে তদন্ত করতে হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে৷

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে [sharethis-inline-buttons]

Check Also

উপাচার্যের দোয়া-মাহফিলে অংশ না নিয়ে আমোদ-প্রমোদে জবি শিক্ষক সমিতি

জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য প্রয়াত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হকের স্মরণে দোয়া মাহফিল …

error: Content is protected !!