Breaking News
Home / কেরানীগঞ্জ / কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষকের পাশবিক নির্যাতনে ৭ বছরের ছাত্র নিহত

কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষকের পাশবিক নির্যাতনে ৭ বছরের ছাত্র নিহত

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:

কেরানীগঞ্জে শিক্ষকের নির্যাতনে ৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মোক্তাদির কে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার এস আই ইমারন উকিল সাংবাদিকদের জানান, নিহত মো: শুভ হাসান (৭) ও তার ছোট ভাই মো: শান্ত হোসেন (৬) দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানাধীন দোলেশ্বর গ্রামে ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় নুরানি বিভাগে লেখাপড়া করতেন। তারা মাদ্রাসায় ৪ তলার একটি রুমে থেকে পড়াশোনা করতেন। গত শুক্রবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে নিহত শুভ , ছোট ভাই শান্তু ও আরো দুইজন ছাত্র মাদ্রাসা মাঠে খেলাধুলা করার জন্য যায়। মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী বিকাল ৪ টার আগে খেলাধূলা করা যাবে না। অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেস মোহাম্মদ আব্দুল মোক্তাদি তাদেরকে মাঠে খেলতে দেখলে তার রুমে ধরে নিয়ে আসে এবং নির্ধারিত সময়য়ের আগে খেলতে যাওয়ায় অপরাধে ৪ জনকে মারধর করে।

মার খেয়ে ৩ জন পালিয়ে গেলেও শুভ হাসান শিক্ষকের হাতে আটকে পরে যায়, তিনজন পালিয়ে যাওয়ায় আব্দুল মোক্তাদির আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুভোকে লাইটের স্ট্যান্ড দিয়ে আরো পিটাতে থাকে। এক পর্যায়ে স্ট্যান্ডটি ভেঙে গেলেও সে থামে নি। বেদম মারধরে শিশুটি প্রচন্ড ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে শুভোকে রুমে দিয়ে যায় ।

রুমে এসে শুভ আর শান্তকে শাষিয়ে যায় যে মারধরের কথা কাউকে বললে তাদের কে আরো মেরে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হবে। এর পরের দিন (শনিবার) সকালে শুভর অবস্থা অনেক খারাপ হলে তার পরিবারকে খবর দেয়। তার পরিবার এসে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা শুভকে মৃত ঘোষনা করে। মাদ্রাসার আশে পাশের লোকজন বিষয়টি জানতে পারলে তারা দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মাদ্রাসায় গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালানোর চেষ্ঠা করে। পুলিশ হাতে নাতে তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মোক্তাদিরের বিরুদ্ধে নিহতের খালা ঝুমুর আহমেদ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

ঝুমুড় আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, নিহত শুভ হাসানের বাবার নাম মো: দেলোয়ার। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর থানার শোলক গ্রামে। শুভর বাবা মায়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে শুভর বাবা আরেকটি বিয়ে করেন এবং ওর মা ওদের কে আমার কাছে রেখে সৌদী আরব কাজ করতে চলে যায়। আমি ওদের লেখা পড়ার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেই। শুক্রবার বিকালে সামান্য খেলতে যাওয়ার ঘটনায় তার ভাগিনা শুভর ওপর মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মোক্তাদির পাশবিক নির্যাতন চালায় । শুভর ছোট ভাই শান্তও ছিলো তার সাথে। শান্ত আমাদেরকে বলে , মার খেয়ে শুভর পিঠে যখম হয়ে যায় এবং হাতের দুটো আঙুল ভেঙে যায়। শান্ত আর শুভ যেন কাউকে কিছু না বলে সে জন্য শিক্ষক তাদের ভয় ভীতি ও দেখায়। শনিবার গভীর রাত থেকেই শুভর অবস্থা ভালো ছিলো না বার বার খিচুনি দিচ্ছিল। ফজরের নামাজের সময় যখন শিক্ষকরা দেখে ও জানতে পারে তখন তারা আমাদেরকে ডাকে নি বা কোন ব্যবস্থা নেয় নি। ভোড় ৬.৩০ এ যখন ওর অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে যায় তখন আমাদেরকে খবর দেয়। খবর পেয়ে প্রথমে আমরা ওকে আদ দীন হাসপাতালে নিয়ে যাই, সেখান থেকে ডাক্তাররা ওকে ফিরত দিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা ওকে মৃত ঘোষনা করে।

দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ জামান বলেন, মাদ্রাসা ছাত্র নিহতের ঘটনায় এলাকার লোকজন খবর দিলে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ মাদ্রাসায় গিয়ে ঘাতক শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মোক্তাদির কে হাতে নাতে গ্রেপ্তার করে। সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিহতের খালা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তার সর্বোচ্চে শাস্তির জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।#

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

About নিউজ ঢাকা ২৪

Check Also

৫০ লাখ টাকার প্রতারনার অভিযোগ

ব্যবসার কথা বলে ছলে-বলে-কৌশলে চার ব্যক্তিকে বোকা বানিয়ে ৪০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বদরুলের ...

বৈরী আবহাওয়ায় বুড়িগঙ্গায় গরুর ট্রলার ডুবি

সারা দেশের ওপর দিয়ে ঘুর্নিঝড় বুলবুল প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে। বুলবুলের কারনে দেশের সব জায়গার আবহাওয়া ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *