Breaking News
Home / অপরাধ ও আইন / কেরানীগঞ্জে দাফনের ১৬ দিন পর কবর উঠানো হলো মহিলার লাশ
মহিলার লাশ

কেরানীগঞ্জে দাফনের ১৬ দিন পর কবর উঠানো হলো মহিলার লাশ

ঢাকার কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর ইউনিয়নে মুগারচর এলাকা থেকে কোর্টের নির্দেশে দাফনের ১৬ দিন পরে সালেহা বেগম (৪৬) নামে এক মহিলার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান টিটু, ও রোহিতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল আলীর উপস্থিতিতে পুনরায় তদন্তের জন্য লাশটি উত্তোলন করা হয়।

মামলার এজহার সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মৃত সালেলা বেগমের পরিবারের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিলো বিবাদী পাশের বাড়ির ১) জিয়ার উদ্দীন(৫০) পিতা আশ্রাফ আলী, ২) সিরাজুল (৩৫), পিতা হাসান আলী, ৩) হাসান আলী (পিতা ইদ্রিস আলী), ৪) আশ্রাফ আলী (পিতা হাসান আলী), ৫) সাইফুল (পিতা সিদ্দিক মিয়া) দের।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জানুয়ারী ২০২০ সকাল ১১.৩০ এ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বিবাদীরা সালেহা বেগমের বাসায় এসে তার ওপর হামলা করে। সালেহা বেগমের ছেলে ও মামলার বাদী সালাউদ্দিন (২৭) ও তার স্ত্রী ফারজানা (২১) সালেহা বেগমকে বাচাতে আসলে তাদেরকেও আহত করে বিবাদীরা।

তাদের কে মেরে বাড়ি থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় আসামীরা। পরে এলাকাবাীর সহযোগীতায় সালেহা বেগম কে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে আনার পরে আসামীরা আবারো ভয় দেখালে পরদিন ১২ জানুয়ালী সালেহা বেগম পুনরায় অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে চিকিৎসার জন্য কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এর দুই দিন পর ১৪ জানুয়ারি বেলা ২:৩০ মিনিটে তার ছেলে সালাউদ্দিন বাদী হয়ে পাঁচ জনের নামে মামলা করে। সেদিন রাতেই আটক করা হয় মামলার ১,২ ও নং আসামি জিয়ার উদ্দীন, সিরাজ ও হাসান আলীকে।

সালেহার ভাই আহসান উল্লাহ বলেন, আসামীদের হুমকির কারণে সাথে সাথে মামলা করার সাহস পাইনি, । আমার বোনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ এটি সম্পূর্ন একটি সাজানো মামলা। এলাকার অধিকাংশ মানুষের বক্তব্য এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু। শাহীন নামে এক লোক বলেন, যেদিন মারা গেলে সেদিন তারা কেউ কিছু বললো না। অথচ এতোদিন পরে এসে বলছে এটা হত্যাকান্ড এটা তো যুক্তি ছাড়া কথাবার্তা।

আবুল মিয়া নামে এক মুরব্বি জানান, সালেহার লিভারে সমস্যা ছিলো ও লিভার নষ্ট হয়ে মারা গেসে এখন ওর ছেলে মেয়েরা বিষয়টিকে অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

মামলার ৫ নং আসামী সাইফুলের শশুর বলেন, আমার মেয়ের জামাই একজন সিএনজি চালক। যেদিনের ঘটনা সেদিন পুলিশের সাথে তার ডিউটি ছিলো, তার সব প্রমান আমাদের কাছে আছে। শুধু শুধু হয়রানি করার জন্য মামলা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল আলী জানান, যখন মারা গেলে তখন হত্যা করা হয়েছে এমন কোন অভিযোগ জানানো হয় নি। এটা যদি হত্যা করা হয়ে থাকে তা হলে পুলিশকে না জানিয়ে কেন কবর দেয়া হলো। আজকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে আশা করি সুষ্ঠ তদন্ত করা হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল জানান, সঠিক তদন্তের স্বার্থে লাশ কবর থেকে উত্তলন করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃতি কারণ যানা যাবে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি(তদন্ত) আসাদুজ্জামান টিটু বলেন, আদালত থেকে আমরা এই মামলার তদন্তভাড় পেয়েছি। তদন্ত কাজ অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে।

ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে আমরা সালেহার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করেছি। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃতি কারণ যানা যাবে।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,পাকুন্দিয়ায় গাঁজাসহ মাদক বিক্রেতা আটক

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

About নিউজ ঢাকা ২৪

Check Also

যৌনপল্লীর

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ৩য় বারের মত জানাজা অনুষ্ঠিত

শেখ রনজু আহাম্মেদ রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ শনিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর তৃতীয় বাসিন্দা হিসেবে নিলু ...

প্রতারনা

কেরানীগঞ্জে ফিল্টার পানির নামের প্রতারনা !!

কেরানীগঞ্জে ফিল্টার পানির নামে প্রতারনা করছে এক শ্রেনীর প্রতারক পানি ব্যবসায়ীরা। কেরানীগঞ্জের অনেক পানি কারখানার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *