অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলো নীলিমা সমবায় সমিতির মালিক

অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় অবস্থিত নীলিমা সমবায় সমিতিরি মালিক মো: মমিনসহ ৩ জন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার সময় শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার দক্ষিন দুগলদিয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিঃ পুলিশ সুপার মোঃ শাহাবুদ্দিন কবীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ মোমিন ঢাকা জেলার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানাস্থ কদমতলী এলাকায় নীলিমা সমবায় সমিতি নামে একটি ভুয়া এনজিও গড়ে তোলে। এলাকার সহজ সরল গরীব, দিন মজুর নারী ও পুরুষদের কষ্ট অর্জিত টাকা আসামী মোমিন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তার নীলিমা সমবায় সমিতিতে জমা করে।

এইসকল সহজ সরল অসহায় মানুষদের জমাকৃত অনুমান ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা নিয়ে আসামী মোমিন ও তার সহযোগীরা গত ২৫/ ১০/ ২০২১ ইং তারিখ কেরানীগঞ্জ থেকে পালিয়ে যায়। এ সকল ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই বিভিন্ন জায়গায় মানুষের বাড়িতে কাজ করে, ভাত বিক্রি করে টাকা জমিয়ে মমিনের ফাদে পড়ে তার নিলীমা সমবায় সমিতিতে জমা করেছে। মমিন পালিয়ে গেলে ভুক্তভোগীরা কোন উপায়ন্ত না পেয়ে ঐ দিন ই কদমতলী গোলচত্বর ঘেরাও করে আন্দোলন শুরু করে।

এ ঘটনায় দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটানাস্থলে আসে এবং আন্দোলনরতদের আশ্বাস দেয় যে মোমিনকে দ্রæত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার কের তাদের টাকা আদায় করে দেয়া হবে। আন্দোলনকারীরা পুলিশের উপর আস্থা রেখে তাদের আন্দোলন বন্ধ রাখে।

এ বিষয়ে পরবর্তীতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ৭২(১০)২১ ও ৮৭(১০)২১ ধারা- ৪০৬/৪২০/৩৪ পেনাল কোড দু’টি মামলা রুজু হয় এবং মোমিনকে গ্রেপ্তার করার সর্বাত্মক চেষ্টা শুরু করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুুলিশ।
ধূর্ত মোমিন অসংখ্য লোকের টাকা মেরে এতটাই কৌশলী হয় যে সে বিভিন্ন জায়গায় একটা করে বিয়ে করে সেখানে অবস্থান করা শুরু করে।

সর্বশেষে শরিয়তপুরের নতুন আরেকটি বিয়ে করে ওখানে অঢেল সম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে মোমিন। কিন্তু তার শেষরক্ষা হয় নি। কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিঃ পুলিশ সুপার মোঃ শাহাবুদ্দিন কবীরের দিক নির্দেশনায় ও তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান করে ১০/০২/২২ তারিখ রাত ০১.৩০ ঘটিকার সময়ে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার দক্ষিন দুগলদিয়া গ্রাম হতে মোমিন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারের পরে প্রাথমিক জিঞ্জাসা বাদে মোমিন, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছে, এবং তার ক্রয়কৃত জমি বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিয়ে দিবে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছে ।

কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিঃ পুলিশ সুপার মোঃ শাহাবুদ্দিন কবীর আরো জানান, প্রতারক মোমিনকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। সে অসহায় ভিক্ষুক, ভাত বিক্রি করে সংসার চালায়, মানুষের বাসায় ঝি এর কাজ করে এমন সব লোকের টাকা মেরে পালিয়েছিলো। তাকে গ্রেপ্তারের পরে সে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে তার কোন কোন ব্যাংক একাউন্ট আছে সে তথ্য সে আমাদের দেয় নি।

আমরা কেরাণীগঞ্জের প্রতিটি ব্যাংকে তাকে নিয়ে গিয়ে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য আদায়ের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে #

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে [sharethis-inline-buttons]

Check Also

কেরানীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাচ্ছে ১৫ গৃহহীন পরিবার

দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ মুজিবর্বষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পরে আওতায় …

error: Content is protected !!